বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে একটি কেন্দ্রের ফলাফল শিটে আগাম স্বাক্ষর করিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাতলি নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মাতলি নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ চলাকালে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পোলিং অ্যাজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল শিটে আগাম স্বাক্ষর নেন।
আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন যে, ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পোলিং অ্যাজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল শিট অর্থাৎ ফরম ১৬-তে আগাম স্বাক্ষর গ্রহণ করছিলেন।
নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনার ভিত্তিতে এই ফরম পূরণ করে স্বাক্ষর নেয়ার কথা থাকলেও তা সকালেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা নূর ইসলামের দাবি, কাজের চাপ কমাতে এবং সময় সাশ্রয় করতে আগেভাগে স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিলেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট ও সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন।
তিনি মেনে নেন যে, ফলাফল নির্ধারণের আগেই শিটে স্বাক্ষর নেয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী।
এ ঘটনা জানতে পেরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক শিটগুলো জব্দ করেন এবং উপস্থিত সবার সামনে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলেন।
ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আগাম স্বাক্ষর নেয়ার ঘটনাটি একটি গুরুতর প্রশাসনিক বিচ্যুতি। তিনি ওই প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন।
সদর নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা জায়েদ ইবনে আবুল ফজল ওই নির্বাচন কর্মকর্তার প্রতি অনেকটা সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘তিনি কোনো অপরাধ করেননি। এটি একটি ভুল মাত্র।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, প্রিজাইডিং কর্মকর্তার এই বিতর্কিত আচরণের বিস্তারিত বিবরণ ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে। কমিশন থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসন এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে, নির্বাচনের অনিয়ম ছাপিয়ে আরেকটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটারদের অনীহা। বগুড়া-৬ আসনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জনপদে উপনির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অবিশ্বাস্য রকমের কম। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, সকাল ১০টা পর্যন্ত গড়ে মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।



