কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ধোড়করা বাজারে চাঞ্চল্যকর সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো: হৃদয় (২৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগায় ঘটনার সূত্রপাত হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ত্রিভুজ প্রেমের জেরে হৃদয়কে বুধবার (১০ জুন) রাতে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
নিহত হৃদয় উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মরহুম হেদায়েত উল্লাহ প্রকাশ হেদুর ছোট ছেলে।
এ ঘটনায় গ্রেফতাররা হলেন— চিওড়া ইউনিয়নের ঘোষতল গ্রামের নজির আহাম্মদের ছেলে নুরুল আমিন পানসি, আফতাব উদ্দিন খন্দকারের ছেলে তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত ও জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের গাংরা গ্রামের মরহুম আব্দুল হালিমের ছেলে জসিম উদ্দিন (৪৯)। জসিম স্থানীয় মাদক ও চোরা কারবারিদের অন্যতম হোতা বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নিহত হৃদয়ের ভাই মো: ফারুক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের শাহাদাত হোসেন আসিফ, আবদুল্লাহ জনি ও মো: নয়ন মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে বুধবার রাত ৮টার দিকে ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে জনৈক কাইয়ুমের তেলের দোকানে যায়। এ সময় ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত, রাশেদ ও নজির আহমেদ অন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বিপরীত থেকে এসে জনিদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক ঝামেলাটি মিটিয়ে দিলেও প্রান্ত গং আসিফ গংদের প্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে সিএনজিচালক মো: হৃদয় এসে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন।
একপর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের চিহ্নিত মাদককারবারি ও বখাটে রাজিব, পানসি ও ডিমাতলী গ্রামের বিজয় প্রকাশ রিফাত মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহাদাত হোসেন আসিফ ও আবদুল্লাহ জনিকে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি, লাথি মেরে গুরুতর জখম করে।
তখন সিএনজিচালক মো: হৃদয় হামলাকারীদের কবল থেকে আসিফ ও জনিকে রক্ষার চেষ্টা করে। এ সময় মো: রাজিব তার কোমর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে হৃদয়ের বুকের ডান পাশের পাজরের নিচে ছুরিকাঘাত করেন। এতে হৃদয় চিৎকার দিয়ে রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়ে এবং মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে। এ সময় তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।
উপস্থিত লোকজন হৃদয়কে ধোড়করা বাজারে অবস্থিত রেক্স ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে হৃদয়কে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় রিয়া নামের এক বিবাহিত নারীর সাথে আলামিন হোসেন রাকিব ও তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত নামে দুই যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রিয়ার স্বামী প্রবাসে থাকে। কিছুদিন ধরে রিয়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রান্তকে দায়ী করে রাকিব। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি সামনে এসেছে। মূল হত্যাকারী রাজিবসহ অপর আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট রিয়া নামের ওই নারীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ হৃদয়ের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।



