বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিপ হুইপ এমপি নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমান কাল ধরে এদেশে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশার মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি রেখে একসাথে বসবাস করে আসছে।’
তিনি বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান রথযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরীব মানুষের অংশগ্রহণ এ ভূখণ্ডের মানুষের অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন।’
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা জেলার ধামরাইয়ে শ্রী শ্রী যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটি আয়োজিত ‘ঐতিহ্যবাহী ধামরাই যশোমাধব রথযাত্রা উৎসব’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘কারুপণ্যের জন্য বিখ্যাত পৌরশহর ধামরাইয়ের রথযাত্রা অনুষ্ঠানটি দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রথযাত্রা উৎসব বলে শুনে এসেছিলাম, আজ তা নিজের চোখে দেখলাম।’
আওয়ামী শাসনামলের কথা উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে তারা হিন্দুদের মন্দিরে আক্রমণ চালিয়েছিল। এছাড়া তারা অনেক সময় মন্দিরের মূর্তির হাত পা ভেঙ্গে দিয়ে মৌলবাদী সম্প্রদায়ের ওপর দোষ চাপিয়েছে। ফ্যাসিবাদি সরকার এসন নাটক সাজিয়েছিল বিগত সময়ে। কিন্তু গত দুই বছরের কোনো মন্দিরে হামলা ও মূর্তি ভাঙচুর হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাজ করে গেছেন। তার ফলেই বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া বলেছেন, সব ধর্মের লোকজনই কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড পাবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই।’
শ্রী শ্রী যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহামেদ, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি, ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল মামুন, যশোমাধব মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক, সহ-সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন প্রমুখ।
এরপর বিকেলে সাড়ে ৬টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদীপ জ্বালিয়ে ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রধান অতিথি রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি পুরোহিত উত্তম গাঙ্গুলির হাতে প্রতীকী রশি তুলে দেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় রথটান অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৪ জুলাই (শুক্রবার) উল্টো রথটান হবে।
তবে রথযাত্রা উপলক্ষে ২০ দিনব্যাপী মেলা বসেছে। পৌরসভা সদর এলাকা জুড়ে বসে এ মেলা। এ মেলায় রয়েছে নাগরদোলা, সার্কাস, কুটিরশিল্প, কাঁসা-পিতল শিল্প, মৃৎশিল্প, ছোটদের খেলার সামগ্রী, শংকর, রসগোল্লা ও মতিপালের প্রসিদ্ধ মিষ্টিসামগ্রী সমাহার এবং বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে দোকানীরা এসেছেন।



