মমেকে থামছেই না হামের থাবা, আরো এক শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, আর মৃত্যুর মিছিল যেন থামার নাম নেই।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, আর মৃত্যুর মিছিল যেন থামার নাম নেই। সর্বশেষ আরো এক শিশুর মৃত্যুতে পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন হিসেবে মোট ৩৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে—যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক ভয়াবহ সতর্কসংকেত। বর্তমানে হাসপাতালে ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটি ছিল মাত্র ১১ মাস বয়সী এক মেয়েশিশু, সে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা। গত ১৩ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ১১ দিন জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে ২৪ মে বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি একাধিক জটিলতায় ভুগছিল—সেপ্টিসেমিয়া (রক্তে সংক্রমণ), সন্দেহভাজন হাম, সেরিব্রাল পালসি, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টাল ডিলে (জিডিডি) এবং মৃগীরোগ। এমন শারীরিক অবস্থায় হামের সংক্রমণ তার জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ জন। ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৯৩ জন রোগী ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৭৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

তবে প্রশ্ন উঠছে—এত আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরও কেন কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হচ্ছে না?

সংশ্লিষ্টদের দাবি, টিকাদানে অনীহা ও সচেতনতার ঘাটতিই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা: মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়াই পারে শিশুদের জীবন রক্ষা করতে।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে মানুষের চলাচল বাড়ার প্রেক্ষাপটে সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি যে আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা।