আবদুল আউয়াল মিন্টু মন্ত্রী হওয়ায় ফেনীতে আনন্দের বন্যা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু। তার এ অর্জনের মধ্য দিয়ে ফেনীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।

শাহাদাত হোসাইন, ফেনী অফিস

Location :

Feni
আবদুল আউয়াল মিন্টু
আবদুল আউয়াল মিন্টু |নয়া দিগন্ত

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু। তার এ অর্জনের মধ্য দিয়ে ফেনীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।

এর আগে ফেনী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একই আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়ে বস্ত্র ও পাট এবং বন ও পরিবেশসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বীর বিক্রম। ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বিদায় নেয়ার পর দীর্ঘ সময় ফেনীবাসী আর কোনো মন্ত্রী পায়নি।

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনী-৩ আসনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এর পর থেকেই তাকে ঘিরে শুরু হয় গুঞ্জন। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসী আশা করেন, তিনি এমপি হলেই মন্ত্রী হবেন।

মঙ্গলবার ( ১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর সেই আশা পূরণ হলো।

দেশের খ্যাতিমান এ শিল্পপতি এর আগে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের দুইবারের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিজ এলাকা দাগনভূঞায় স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কলকারখানা প্রতিষ্ঠাসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখে আসছেন। তার বাবা প্রয়াত হাজী সফিউল্যাহ দাগনভূঞা উপজেলার দুইবারের চেয়ারম্যান এবং ভাই মো. আকবর হোসেন দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ছিলেন। তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন (ওয়েব)-এর চেয়ারপারসন। তার জ্যেষ্ঠ ছেলে তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর সভাপতি ছাড়াও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

জেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, দাগনভূঞা তথা ফেনীর উন্নয়নে আবদুল আউয়াল মিন্টুর অনন্য অবদান রয়েছে। মন্ত্রী হয়ে তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করি।

সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন বাবলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফেনী-৩ আসনের জনগণ উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। জনগণের বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পূর্ণমন্ত্রী হওয়ায় আবদুল আউয়াল মিন্টু দাগনভূঞা-সোনাগাজীর উন্নয়নে ভূমিকা ব্যাপক রাখবেন।

দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আকবর হোসেন বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু তার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে শতভাগ চেষ্টা করবেন। দাগনভূঞা-সোনাগাজীকে চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করতে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।

সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টুর মন্ত্রী হওয়ার সংবাদে এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার পর ফেনীবাসী আর কোনো মন্ত্রী পায়নি। এবার মন্ত্রী পাওয়ায় ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হলো। এর মধ্য দিয়ে ফেনী জেলায় উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।