এক টাকা ঘুষের প্রমাণ দিলে চাকরি ছেড়ে চলে যাবো : সিলেটের ডিসি

‘এ ধরনের অপপ্রচার দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসন কারো প্রতি পক্ষপাত করছে- এমন ভুল বার্তা জনগণের মধ্যে দেয়া হচ্ছে, যা মোটেও সত্য নয়।’

সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
ছবি : নয়া দিগন্ত

সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেছেন, ১০ কোটি টাকা দূরে থাক, আমার বিরুদ্ধে এক টাকা ঘুষের প্রমাণ দিতে পারলে আমি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে চলে যাবো। এটা আমার চ্যালেঞ্জ।

জেলা প্রশাসক বলেন, সম্প্রতি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। একইসাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব ছড়ানো হচ্ছে- এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি করছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার প্রশ্নে আমি কোনো আপস করিনি ও ভবিষ্যতেও করব না।

সিলেট জেলা প্রশাসনের প্রতিটি কার্যক্রম জনগণের কল্যাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশী কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। সিলেটে তিনজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় যাচাই করা হয়। এর মধ্যে একজন প্রার্থী দাবি করেছেন যে তিনি বিদেশী নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাগরিকত্ব ত্যাগের বৈধ ও গ্রহণযোগ্য কোনো ডকুমেন্ট তিনি জমা দিতে পারেননি।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমরা শুধু আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন বা হোম অফিসের স্বীকৃত ডকুমেন্ট অথবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের রশিদ প্রয়োজন। প্রার্থী সেটি দিতে না পারায় আমাদের বাধ্য হয়ে মনোনয়ন বাতিল করতে হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ঘুষের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ১০ কোটি টাকা তো দূরের কথা, কেউ যদি এক টাকা ঘুষ দেয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব। এটি একটি ভয়ঙ্কর ফেক নিউজ।

তিনি বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসন কারো প্রতি পক্ষপাত করছে- এমন ভুল বার্তা জনগণের মধ্যে দেয়া হচ্ছে, যা মোটেও সত্য নয়।

মতবিনিময় সভায় সিলেটে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।