বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ শুধু একটি জেলা নয়; এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের ঐতিহাসিক কেন্দ্র। এক সময় দেশের পাটশিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিল। জাতীয় আয়ে এ অঞ্চল অসামান্য অবদান রেখেছে।’
তিনি বলেন, ‘পাটের উৎপাদন ও বহুমুখী পাট পণ্যের ব্যাবহার বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি পাটকল চালু এবং বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে ইতোমধ্যে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সেইসাথে পাট জাতীয় পণ্যের উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধি করতে আমরা কাজ করছি।’
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া শহীদ জিয়া হলে বহুমুখী পাটপণ্য মেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পাটমন্ত্রী বলেন, ‘পাট আমাদের রফতানির দুই শতাংশ। বর্তমান বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পাটের ওপর গুরুত্ব অনেক। প্লাস্টিকের ব্যাগের পরিবর্তে পাটের ব্যাগের যে বিশাল চাহিদা বিদেশে, সেদিকে বিগত সরকার নজর দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থ বছরে আমাদের লক্ষ্য ছিল নয় শ’ মিলিয়ন ডলার আয় করা। ইতোমধ্যে চার শ’ নব্বই মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। কাঁচা পাট উৎপাদন ও পাট রফতানিতে বাংলাদেশ প্রথম।’
তিনি আরো বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া পাটের বহুমুখী ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যে পাট চাষীদের পাট বীজ ও সার প্রদানের কথা তিনি বলতেন। বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিকের পরিবর্তনে পাটের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। খালেদা জিয়ার সময়েই সরকার পলিথিন নিষিদ্ধ করে।’
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ‘পাট থেকে তৈরি পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। পাট চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের অভাব, উন্নত বীজের অভাব, ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং বাজারজাতকরণের সমস্যা আমাদের সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘পাটের বীজ আমাদের আনতে হয় বিদেশ থেকে। এ সরকারের অগ্রাধিকার আমরা আগামী দিনে পাটের বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করব। আমরা সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছি পণ্য ডিজাইন ও ব্রান্ডিংয়ের জন্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘পাট পণ্য উৎপাদনকারীদের জন্য ঋণের সুবিধা দেয়ার কাজ করা হচ্ছে। আমরা বিসিকে যে মেলায় যাই সেখানে প্রায়ই দেখি পাট উৎপাদনকারীদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আছে। আমরা নারায়ণগঞ্জকে কেন্দ্র করে আধুনিক পাট শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছি। যেখানে উৎপাদন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।’
পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরই ব্যক্তিখাতের শিল্প কারখানায় সরবরাহ করা হয়। তাই জ্বালানির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে রফতানি কমেছে বিষয়টি এমন নয়; বরং বৈশ্বিক মন্দা রফতানি কমার বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।’
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বাসভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম নাটকীয়ভাবে বাড়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়াতে হবে।’
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাটপ্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: রায়হান কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাসমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজউদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক (পিপিপি) কাজী ফিরোজ হোসেন, উপ-প্রধান হিসাব রক্ষক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।



