গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি পাত হওয়ায় স্বস্তি ফিরিয়ে আসলেও ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টিতে এক ফসলী বোরো ধান ক্ষতি গ্রস্ত হবার আশঙ্কা করছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কৃষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। শুধু তাই নয় ঝড়ের সাথে বজ্রপাত অপর দিকে ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় দুর্বল বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় উৎবেগ আর উৎকণ্ঠায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাজার হাজার কৃষক।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ৩টা থেকে শুরু হওয়া ঝড়, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে হতে থাকে।
উপজেলার মাটিয়ান ও শনি হাওরের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাওরে বৃষ্টির প্রয়োজনীয় ছিল তবে শিলা বৃষ্টি হওয়ায় ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কারন হিসাবে তারা বলছেন, এখন হাওরের জমি গুলোতে ধানের শীষ বের হয়নি তবে বের হবার প্রযার্য়ে রয়েছে ঠিক এ সময় শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টি হলে ক্ষতি গ্রস্ত হবার আশংকা করেছেন। শিলাবৃষ্টির কারনে মাঠে থাকা সবজি চাষিদের ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ঝড়ো হাওয়ার সাথে শিলা বৃষ্টি ও বজ্র পাতের কারনে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে হাওর জুড়ে।
শনি হাওর পাড়ে কৃষক ফরিদ মিয়া জানান, ধানের অবস্থা ভালো আছে। বৃষ্টি হওয়ায় আরো ভাল হয়েছিল কিন্তু শনিবার দুপুর থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত শিলা বৃষ্টি হওয়ার কারনে ভয়ে আছি। আর বৃষ্টির পরিমাণ আরো বাড়ে আর পাহাড়ি ঢল আসে আবার শিলাবৃষ্টি হয় বেশি পরিমাণে তাহলে ধান নষ্ট হবে আমরা ক্ষতি গ্রস্ত হবো। আর বজ্রপাতের কারনে ভয় কাজ করছে।
মাটিয়ান হাওর পাড়ে কৃষক জামিল মিয়া জানান,আমরা এই একটা ফসলের উপর নির্ভরশীল। এই ফসল আমাদের পরিবার ভরণ-পোষনসহ জীবন জীবিকা একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ সরকার অকৃপণ হাতে টাকা দিলেও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের শেষ নাই। এখনও বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। এখন ঝড় শুরু হয়েছে পাহাড়ি ঢলও আসে তাহলে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন তাহিরপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক তুজাম্মিল হক নাছরুম বলেন, ‘ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ দায়িত্বশীলরা সময় মতো শেষ করতে না পারায় হাওরাঞ্চলে ফসল রক্ষা বাঁধগুলো দুর্বল হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আর যদি পাহাড়ি ঢল আসে তাহলে বাঁধ ভেঙে কষ্টে ফলানো কৃষকের এক মাত্র অবলম্বন তলিয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।’
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, ‘ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ সঠিক ভাবে না করায় মজবুত হয়নি। সে কারনে গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারনে আমরা উৎবেগ আর উৎকণ্ঠায় আছি। কারন পাহাড়ি ঢল আসলেই বাঁধ ভেঙে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাবে।’
সে কারনে দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ প্রতিটি বাঁধে কঠোর নজরদারি ও ঝুঁকি পূর্ণ বাধঁ গুলো প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানান।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি হয়েছে তবে ক্ষতি হয়েছে কি না সে বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করছি বোরো ধানের ক্ষতি হবে না।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানান, এক ফসলী বোরো ধান রক্ষা প্রতিটি বাঁধে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং শুরু থেকেই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে কোনো অনিয়ম যেন না হয়। ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না ফসল রক্ষা বাঁধের।



