নাঙ্গলকোটে ধর্মান্তরিত নারীর স্বামী-সন্তান ফিরে পাওয়ার আকুতি

ফাহমিদা বর্তমানে নাঙ্গলকোট উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে স্বামীর বাড়ির একটি অর্ধনির্মিত ভবনে বসবাস করছেন। তার অভিযোগ, ১১ বছর বয়সী মেয়ে আনিছা মিনহাজ ও ৫ বছর বয়সী ছেলে আবদুল্লাহ আজমাইনের সাথে তাকে যোগাযোগ করতে দেয়া হচ্ছে না।

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

Location :

Cumilla
ফাহমিদা ইসলাম
ফাহমিদা ইসলাম |নয়া দিগন্ত

ভালোবাসার টানে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন লক্ষ্মীপুরের তৃঞ্চারাণী দাস, বর্তমানে যার নাম ফাহমিদা ইসলাম। তবে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর এখন স্বামী ও দুই সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার শ্বশুরবাড়িতে একা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ফাহমিদার দাবি, স্বামী মিনহাজুল ইসলাম আশিক তাকে তালাকের নোটিশ পাঠালেও তিনি তাতে সম্মতি বা স্বাক্ষর দেননি। ফলে তিনি এখনও সংসার টিকিয়ে রাখতে চান এবং স্বামী-সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করায় পৈতৃক পরিবারও তাকে আর গ্রহণ করছে না বলে জানান তিনি। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।

ফাহমিদা বর্তমানে নাঙ্গলকোট উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে স্বামীর বাড়ির একটি অর্ধনির্মিত ভবনে বসবাস করছেন। তার অভিযোগ, ১১ বছর বয়সী মেয়ে আনিছা মিনহাজ ও ৫ বছর বয়সী ছেলে আবদুল্লাহ আজমাইনের সাথে তাকে যোগাযোগ করতে দেয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজারামবোস গ্রামের রঞ্জন দাসের মেয়ে তৃঞ্চারাণী দাসের সাথে ২০১২ সালে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় নাঙ্গলকোটের মিনহাজুল ইসলাম আশিকের। পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ফাহমিদা ইসলাম নাম ধারণ করেন এবং ২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর তাদের বিয়ে হয়। সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়। তবে ২০১৮ সালের পর থেকে পারিবারিক কলহ, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।

ফাহমিদার অভিযোগ, ঢাকায় বসবাসকালে তার স্বামী অন্য নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাশুড়িও তার ওপর নির্যাতন চালাতেন। এমনকি গরম খুন্তি দিয়ে মুখে ছ্যাঁকা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফাহমিদা বলেন, "আমি সংসার করতে চাই। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে আগের মতো জীবন ফিরে পেতে চাই। কিন্তু আমাকে সন্তানদের সাথেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।"

অন্যদিকে মিনহাজুল ইসলাম আশিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফাহমিদার পরকীয়াসহ বিভিন্ন আচরণের কারণে সংসার টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তিনি ইতোমধ্যে তালাক দিয়েছেন এবং দেনমোহরের চেয়েও বেশি অর্থ দিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু ফাহমিদা তা গ্রহণ না করে এখনও তার বাড়িতে অবস্থান করছেন। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আশিকের জ্যেষ্ঠ চাচা মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সালিশে ফাহমিদাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং বাড়ির একটি কক্ষ বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ফাহমিদার ভাষ্য অনুযায়ী, তালাক কার্যকর হয়নি এবং তিনি এখনও দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আশা করছেন। অন্যদিকে স্বামী দাবি করছেন, তালাক সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি এখন আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির পথে রয়েছে। ফলে দাম্পত্য বিরোধ নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা রয়েছে।