গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা তাহফিজুল কোরআন মহিলা মাদরাসার নবম শ্রেণির অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেইসাথে গ্রেফতার করা হয়েছে সাত আসামিকে। তবে প্রধান আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর এমসি বাজার এলাকা থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় মূল অভিযুক্ত মো: আবিদসহ অন্যরা পালিয়ে যায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো: লাল চাঁন মিয়া জানান, জেলা গোয়েন্দা পলিশ (ডিবি) ও শ্রীপুর থানার যৌথ অভিযানে এ মামলায় সাত আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থীর মেডিক্যাল পরীক্ষা, বয়স নির্ধারণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক প্রধান আসামিসহ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও ওই শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থী গত ১৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন। এ ঘটনায় স্থানীয় সুরুজ মিয়ার ছেলে মো: আবিদ (২১) নামের এক যুবকসহ কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে অপহরণকারীর পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ওই মেয়েকে তার বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক হয়। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় বেলা ১১টার দিকে পুনরায় ঘরের দরজা ভেঙে পরিবারের লোকজনকে মারধর করে অস্ত্রের মুখে শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা ১৬ এপ্রিল শ্রীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় মো: আবিদ প্রধান আসামিসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।



