টাঙ্গাইলে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের মামলায় আসামি নুরনবীকে (২৭) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস এ দন্ডাদেশ দেন।
নুরনবী টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নব ধুলটিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তার উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো: ওমরাও খান দীপু জানান, গোপালপুর উপজেলার গাংপাড়া গ্রামের খন্দকার রাসেল পুলিশে চাকরির সুবাদে কিশোরগঞ্জ থাকতেন। তার পাঁচবছর বয়সী ছেলে কেএম রাহেনুল ইসলাম আরাফ মায়ের সাথে গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করতেন। গত ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর সকালে খন্দকার রাসেলের খালাতো ভাই নুরনবী শিশু আরাফকে বাড়ির পাশে খেলতে নিয়ে যান। দুপুর হয়ে গেলেও আরাফ বাড়িতে ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। তাকে খুঁজে না পাওয়ায় পরদিন গোপালপুর থানায় জিডি করা হয়।
একপর্যায়ে পরিবারের লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে নুরনবী স্বীকার করেন যে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশে শিশু আরাফকে অপহরণ করা হয়েছে। এর তিনদিন পর নুরনবীর দেয়া তথ্যমতে কালিয়াকৈরের একটি জঙ্গল থেকে শিশু আরাফের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর আরাফের দাদা নাসির উদ্দিন বাদি হয়ে গোপালপুর থানায় মামলা করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মামুন ভূঁঞা ২০২৫ সালের ২৭ মে আদালতে চার্জশিট দেন।
বিচার শেষে শিশু আরাফকে হত্যার দায়ে আসামি নুরনবীকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন বিচারক। এছাড়া অপহরণের দায়ে আসামিকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং হত্যার পর লাশ গুম করায় আসামিকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মহসীন সিকদার।



