জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘আমরা ২৪-এর আগে পর্যন্ত বিএনপিকে সাথে নিয়ে ফ্যাসিবাদকে মোকাবেলা করেছি। কিন্তু ২৪-এর নির্বাচনের পর আমাদের তাদের প্রতারণাকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘২৬-এর নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটা সরকার ক্ষমতায় এসেছে, এমন একটা দল ক্ষমতায় এসেছে যাদের সাথে ২৪-এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই রাজপথে আমরা আন্দোলন করেছি।’
বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধায় রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ইফতার মাহফিলে আরো বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আাতিক মুজাহিদ (এমপি), উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) আসাদুল্লাহ আল গালিব, জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় দফতর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা, মহানগর বিএনপির আাহ্বায়ক মাহফুজ উন নবী ডন, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটার আনোয়ারুল ইসলাম কাজল প্রমুখ।
আখতার হোসেন বলেন, ‘২৪-এর আন্দোলনে বিএনপি ও আমরা একসাথে রক্তাক্ত হয়েছি। একসাথে আমরা জেল খেটেছি। একসাথে আমরা রাজপথের সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছি। সেই বিএনপি ২৬-এর নির্বাচনের পরে প্রতারণার আশ্রয় যখন নেয় তখন আমাদেরকে ভাবতে হয় বিএনপির এমপি যারা আছেন তারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের আইন ভঙ্গ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বিএনপি লঙ্ঘন করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির এমপিরা বাংলাদেশের আইন লঙ্ঘন করার কাজটা শুরু করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য যে আদেশ জারি করা হয়েছে সে আদেশের মধ্যেই বলা আছে, সংসদ যেমন করে ৩০ দিনের মধ্যে বসতে হবে, তেমন করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভাও ৩০ দিনের মধ্যে বসতে হবে। যে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন তারই উচিত ছিল সংস্কার পরিষদের জন্যও অধিবেশন আহ্বান করা। বিএনপি সরকারি দল, তাদের উচিত ছিল সেজন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই।’
ইফতার মাহফিলে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিএনপি, জামায়াতসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা অংশ নেন।



