ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নে তালিকা প্রণয়ন ও চাল বিতরণ নিয়ে নানা অনিয়মের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তালিকায় প্রকৃত অসহায়দের পরিবর্তে সচ্ছল ব্যক্তি কিংবা একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে কার্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে চাল উত্তোলন, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেয়া এবং কার্ড নিয়ে নানা ধরনের অনিয়মের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, তালিকায় নারীর নাম থাকলেও তার পরিবর্তে অন্য একজন পুরুষ টিপসই দিয়ে চাল নিয়ে যাচ্ছেন। আবার ১০ কেজি চালের পরিবর্তে অনেককে ৯ কেজি বা তারও কম দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য (মেম্বার) ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভিজিএফ সুবিধাবঞ্চিতরা।
জানা যায়, মাইজবাগ ইউনিয়নে মোট তিন হাজার ২২৩ জন দুস্থ ব্যক্তির জন্য ৩২ টন ২৩০ কেজি ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমোদন ছাড়াই মোট বরাদ্দের প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ চাল ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ১৩ ও ১৪ মার্চ ওই চালগুলো বিতরণ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান। এ সময় তিনি মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বাবুলের কাছে তালিকার অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে জানা যায়।
এ সময় পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম ও ট্যাগ অফিসার শফিকুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও অনুমোদনহীন তালিকার ভিত্তিতে কিভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাল বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন এবং ইতোমধ্যে বিতরণ করা ভিজিএফ চালের তালিকাসহ সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র তার কার্যালয়ে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।
মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘তালিকায় কোনো অনিয়ম করা হয়নি। ওজনেও কম দেয়ার সুযোগ নেই। তবে বালতি দিয়ে মেপে দেয়ায় ঊনিশ-বিশ হতে পারে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ‘মাইজবাগ ইউনিয়নের ভিজিএফ বিতরণ তালিকা অনুমোদন করা হয়নি। তাই আপাতত বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। মাইজবাগ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণের তালিকা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে জমাকৃত তালিকা মিলিয়ে দেখা হবে। কোনো গড়মিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



