চুয়াডাঙ্গায় তেলের দীর্ঘ সঙ্কট নিরসনে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কার্যক্রম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই লম্বা লাইন দেখা যায়। এসময় লাইনে আগে-পিছে দাঁড়ানো নিয়ে দুই ব্যক্তির মধ্য বাগ্বিতণ্ডা ও এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ভিডিও করতে গেলে তারা সেখান থেকে চলে যান। তবে ১৭ সেকেন্ডের একটি মারামারির ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিকুজ্জামান জানিয়েছেন, সকাল ৯টা থেকে কার্ডের জন্য বৈধ কাগজপত্র জমা নেয়া শুরু হয়েছে। আজ ও আগামীকাল (৩১ মার্চ) আবেদন গ্রহণ চলবে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। পরে জমা হওয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ফুয়েল কার্ড সরবরাহ করবে জেলা প্রশাসন।
আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্ড দেখালে তেল বিতরণ করবে পাম্প স্টেশনগুলো। চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বমোট ২২টি তেল পাম্প স্টেশন ফুয়েল কার্ড দেখে তেল সরবরাহ করবে।
এর আগে রোববার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, জেলার সব মোটরসাইকেল ও যানবাহন চালকদের তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক করা হবে। ফুয়েল কার্ড ছাড়া কেউ তেল পাবেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কার্ডের জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হয়। এরমধ্যে মোটরসাইকেল চালক, কৃষক ও বিভিন্ন যানবাহনের মালিক-চালক ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ছোটখাটো মারামারির ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, তাই গুজবের ভিত্তিতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ফুয়েল কার্ড কার্যক্রম চালু হলে তেলের সঠিক বিতরণ, শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।’
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান জানিয়েছেন, লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল এবং তেল মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় বিজিবি জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করেছে।’



