আনোয়ারায় কোরবানির আগাম জমে উঠছে পশুর হাট

এ বছর উপজেলায় তিনটি স্থায়ী ও নয়টি অস্থায়ীসহ ১২টি পশুর হাট বসানো হয়েছে।

মো: নূরুল কবির, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

Location :

Chattogram
আনোয়ারায় কোরবানির আগাম জমে উঠছে পশুর হাট
আনোয়ারায় কোরবানির আগাম জমে উঠছে পশুর হাট |নয়া দিগন্ত

আনোয়ারা উপজেলায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আগেভাগেই জমে ওঠেছে পশুর হাট। প্রতি বছরের মতো এবারো জমে উঠেছে উপজেলার তৈলারদ্বীপ সরকার হাট। বাজারটিতে আনোয়ারা ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতাকানিয়া, কর্ণফুলী, কক্সবাজার জেলার পেকুয়াসহ চট্টগ্রাম নগর থেকে ক্রেতারা এসে কোরবানির পশু ক্রয় করেন।

এছাড়া পাইকারি ব্যবসায়ীরাও কোরবানের পশু কিনতে চলে আসেন এ বাজারে। বাজারে কেউ যেন প্রতারিত না হয় সে জন্য সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন ইজারাদার, কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।

আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে সরকারহাট বাজারে দেখা গেছে, আগের বাজারের সাথে নতুন করে কোরবানির পশু বাঁধার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাজারের সামনে রাখা হয়েছে কোরবানির পশু বহনের যানবাহন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কোরবানির পশু এনে হাটে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। ধীরে ধীরে আগাম কোরবানির পশু বিক্রি বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন তারা। গরুর পাশাপাশি ছাগল ও প্রচুর পরিমাণে মহিষ রয়েছে এই বাজারে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় তিনটি স্থায়ী ও নয়টি অস্থায়ীসহ ১২টি পশুর হাট বসানো হয়েছে। এর মধ্যে তৈলারদ্বীপ পশুর হাট, বটতলী রুস্তমহাট ও চাতরী চৌমুহনী বাজার স্থায়ী পশুর হাটের ইজারা রয়েছে। এছাড়া রায়পুর ওয়াহেদ আলী চৌধুরী বাজার, জৈদ্দারহাট, গহিরা দোভাষীর হাট, আন্নর আলী সিকদার হাট, বরুমচড়া কানু মাঝির হাট, মিন্নত আলী দোভাষীর হাট, কেবি ছাত্তার হাট, মালঘর বাজার ও পালের হাটে কোরবানি ঈদ উপলক্ষে পশু কেনা-বেচা হবে।

গরু ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা গরু আনছেন। কিছু কিছু বিক্রিও করছে তবে তা কম। তবে ধীরে ধীরে ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীর তুলনাই মৌসুমি ব্যবসায়ীদেরও গরু কিনতে দেখা যাচ্ছে।

বাজার কর্তৃপক্ষ জানান, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন বেপারিরা। এছাড়া কুষ্টিয়া, বগুড়া, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও গরু নিয়ে এসেছেন অনেকে। শুধু কোরবানির মৌসুম নয় বরং সারা বছরই সরগরম থাকে সরকারহাট পশুর বাজার। সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার বাজারের নির্ধারিত দিন হলেও কোরবানে সপ্তাহজুড়েই চলে পশু বেচা-কেনা।

বাজারে গরু কিনতে আসা আবদুল হক জানান, কোরবানিকে সামনে রেখে মাঝারি সাইজের কিছু গরু কিনতে আসলাম। দাম একটু বেশি। কোরবানির আগে আগে দাম কমতেও পারে, আবার বাড়তেও পারে তা-ই এখন গরু নিলে খুবই রিস্ক নিয়ে নিতে হবে। তবে এই হাটে সব ধরনের পর্যাপ্ত পরিমাণে গরু আছে।

বাজারের ইজারাদার ক্যাপ্টেন নূর মোহাম্মদ বলেন, এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা দূর দূরান্ত থেকে কোরবানির পশু নিয়ে আসেন তাদের জন্য নিরাপদ থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া সব ধরনের দালাল, বিশৃঙ্খলা নিরসনের আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা নিয়োজিত রয়েছে। নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু কিনতে সরকার হাট একটি আদর্শিক জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।