চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে জাকির সম্রাট-৩ ও অ্যাডভেঞ্চার-৯ নামে দুই লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা চার বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে আরো অর্ধ-শতাধিক।
এর আগে শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা দুই লঞ্চে সংঘর্ষের ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে তিনি জানান, এ ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন।
সোহাগ রানা বলেন, ‘লঞ্চে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনের লাশ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টা দিকে চাঁদপুর সদরের হরিনা এলাকায় মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে এমভি জাকির সম্রাট-৩ ও এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সংঘর্ষ হয়।
যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা অভিমুখী এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি রাত ২টার পর হাইমচর নৌ এলাকা অতিক্রম করছিল। একই সময়ে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিল বরিশালগামী এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯। এসময় নদীজুড়ে প্রচণ্ড ঘন কুয়াশা থাকায় দিক নির্ণয় করতে না পেরে অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত জাকির সম্রাট-৩ যখন মাঝনদীতে ডুবো-ডুবো অবস্থায় ভাসছিল, তখন ভোলা থেকে ঢাকাগামী এমভি কর্ণফুলী-৯ নামে অপর একটি লঞ্চ দ্রুত এগিয়ে আসে। তারা অনেক যাত্রীকে উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন আ: গনি (৩৮), মো: সাজু (৪৫), মো: হানিফ (৬০), মোসা: রিনা (৩৫)। তারা সবাই ভোলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য জানান, চাঁদপুর সদরের হরিনা এলাকায় মেঘনা নদীতে কুয়াশার কারণে দু’টি লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি কুসুম দেওয়ানও চারজন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন।



