টানা ধর্মঘট চট্টগ্রাম বন্দরে

চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে, ফলে বন্দরের কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ অচল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর |সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে আবার ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট শুরু হয়।

বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কার্যত অচল পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম।

যে চার দফা দাবিতে ধর্মঘট শুরু হয়েছে, সেগুলো হলো-

১। বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বা এনসিটি আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার ঘোষণা দেয়া।

২। বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।

৩। আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং

৪। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেয়া।

এই অচলাবস্থা নিরসনে শনিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা।

রমজান মাস ও জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধর্মঘট শুরু হলে দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এর আগে নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা না দেয়ার দাবিতে ৩১ জানুয়ারি থেকে আট ঘণ্টা করে তিন দিন কর্মবিরতি পালন করেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে মঙ্গলবার শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি। যা বুধবার থেকে থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে রূপ নেয়। এতে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।

তবে বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে কর্মবিরতি দু’দিনের জন্য স্থগিত করেছিলেন আন্দোলনকারীরা।

এরপরই আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়ার ঘটনায় বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্দোলন উসকে দেয়ার অভিযোগ এনে রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।