দোয়ারাবাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ মৎস্য খামারিরা

উপজেলা সদর ইউনিয়নের টেবলাই, পর্মশরিফপুর, লামাসানিয়া এবং সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর, টেংরাটিলা, নূরপুর, গিরিশনগর, টিলাগাঁও, মহব্বতপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে তেলাপিয়া মাছের চাষ হয়।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

Location :

Dowarabazar
মৎস্য খামারিরা
মৎস্য খামারিরা |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ হচ্ছেন মৎস্য খামারিরা।

মাছ উৎপাদন ও বিপণনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল কয়েক বছর আগে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার তাজা মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে এখনো।

উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের অনেক মানুষ পরোক্ষভাবে মৎস্য পেশার সাথে যুক্ত। নদী, খাল, বিল, পুকুর ও ঘের সব মিলিয়ে মাছ উৎপাদনে এ উপজেলাটি এখন জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিগত ২০২২-২৪ সালের প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় এই উপজেলায় প্রায় শত কোটি টাকার মৎস্য খামার নষ্ট হয়। ফলে মাছ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় অনেকেই। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন সংস্থা হতে মোটা অঙ্কের অর্থ ঋণ নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই চলতি বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশা যেনো পিছু ছাড়ছে না তাদের।

সরজমিনে গেলে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলা সদর ইউনিয়নের টেবলাই, পর্মশরিফপুর, লামাসানিয়া এবং সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর, টেংরাটিলা, নূরপুর, গিরিশনগর, টিলাগাঁও, মহব্বতপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে তেলাপিয়া মাছের চাষ হয়।

চলতি মৌসুমে এসব এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা তেলাপিয়া মাছ বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি পাইকারি দরে মাত্র ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম বলে অভিযোগ চাষিদের। এতে ন্যায্য দাম না পাওয়াতে হতাশায় দিন পার করছেন স্থানীয় খামারিরা।

স্থানীয় খামারিরা জানান, পুকুর লিজ নেয়া, পোনা ক্রয়, খাদ্য, পরিচর্যা ও বিদ্যুৎ বিলসহ মাছ চাষে খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সবমিলিয়ে কেজি প্রতি মাছের উৎপাদনে খরচ দাড়ায় ১৬৭-৭০ টাকায়। কিন্তু বাজারে পাইকারি পর্যায়ে ১৪০ টাকা কেজি দরে মাছ বিক্রি করতে হওয়ায় চাষিদের বড় অংকের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

সুরমা ইউনিয়নের মাছ চাষি আশিস রহমান বলেন, ‘এ বছর খরচ হয়েছে অনেক, কিন্তু মাছ বিক্রির সময় দাম পাচ্ছি না। ১৪০ টাকা পাইকারি দরে মাছ বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে মাছ চাষ বন্ধ করে দিতে হবে।’

একই গ্রামের মাছ চাষি আব্দুর রহিম বলেন, ‘নায্যমূল্য না পেয়েও বাধ্য হয়ে বিক্রি করে দিচ্ছি। পুকুরে মাছ স্টক রাখলে খাবার কিনে খাওয়াতে হবে। খাদ্যের দাম অনেক বেশি। আমরা যে দরে মাছ বিক্রি করছি, তাতে আমাদের লোকসান ছাড়া উপায় নেই।’

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: হানিফ উদ্দিন জানান, প্রান্তিক মাছ চাষিরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার জন্য মার্কেটিং সিস্টেম অনেকাংশে দায়ী। বিশেষ করে অধিকাংশ খামারিরা টার্গেট করে মাছ চাষ করে। ফলে একই সময়ে বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়ে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই দাম কমে যায়। এছাড়া খাবারের দাম, ওষুধের দামসহ মাছের চাষের আনুষাঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা আশানুরূপ লাভবান হতে পারছেন না।

Topics