তাহিরপুরে নদীপথে নৌ-পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার, নতুন টোল নির্ধারণ

‘আমরা সব সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সুন্দরভাবে পরিবহন ধর্মঘট পালন করার জন্য। সেইসাথে প্রশাসন ও শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

Location :

Tahirpur
ধর্মঘটের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন
ধর্মঘটের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন |ফাইল ছবি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের যাদুকাটা, পাটলাই ও রক্তি নদীতে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের ডাকা অনিদিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিন দিনের ধর্মঘটের পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সব দাবি মেনে নতুন টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। পরে সন্ধ্যায় সব সংগঠনের পক্ষে সভাপতি ও সম্পাদকরা নৌ-পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

উপজেলা প্রশাসনের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর টুল ট্যাক্স পাথর ৮০ পয়সা প্রতি টন ও বালু ৩০ পয়সা প্রতি ফুট, বিআইডব্লিউটিএ ৩০ টাকা, খাস কালেকশন পাথর এক টাকা ৭০ পয়সা ও বালু ৫০ পয়সা হারে টোল আদায় করা হবে।

পাটনাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ ৪০ টাকা প্রতি টন (এখনো অনির্ধারিত, তবে ৪৫ টাকা নেয়া হবে), বালু, পাথর ১০০ টন পাঁচ শ’ টাকা, ২০০ টন এক হাজার টাকা ও ২০০ টনের উপরে দুই হাজার টাকা হারে টোল দিতে হবে।

এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি কামাল মিয়া। তিনি এর সত্যতা নিশ্চিত করে রক্তি নদীতে চলতি অবস্থায় কোনো টাকা না দেয়ার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সুন্দরভাবে পরিবহন ধর্মঘট পালন করার জন্য। সেইসাথে প্রশাসন ও শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। টুল ট্যাক্স, খাস কালেকশন ও বিআইডব্লিউটিএ দায়িত্বশীলরা নতুন সিদ্ধান্ত মেনে টাকা আদায় ও রশিদ দেবে। তা না হলে আবারো কঠোর আন্দোলন গ্রহণ করব।’

সচেতন মহল বলছেন, ওই সব ঘাটগুলো আসলে কোনো ঘাটেই নয়, কারণ ওইসব ঘাট দিয়ে কোনো মালামাল পরিবহন ও উঠা-নামা হয় না। ঘাটের নামে চাঁদাবাজি হয়। ওই সব ঘাটের কারণে সরকারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এসব ঘাট যদি সরকার বন্ধ করে, তাহলে সরকারের সুনাম বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া জানান, নদীপথে টোল আদায় নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, সবাই বসে তার অবসান করা হয়েছে। আশা করছি আর কোনো সমস্যা হবে না।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মেহেদী হাসান মানিক জানান, নদীপথে টোল নিয়ে যে পরিবহন ধর্মঘট চলছিল তার অবসান হয়েছে। নৌযান মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি অনুযায়ী নতুন টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুয়ায়ী টোল আদার করবে ওই সব ঘাটের দায়িত্বশীলরা। এর ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।