মির্জাগঞ্জে জেলেদের চাল বিতরণের তালিকায় প্রবাসীদের নাম, ক্ষুব্ধ প্রকৃত জেলেরা

তালিকার ২৭০ থেকে ২৯২ নম্বর ক্রমিক পর্যন্ত ২২ জন ব্যক্তিরা জেলেই না। তালিকার ২৮২ ও ২৮৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা হানিফ মোল্লা ও সেলিম মীর জানান, একদিকে তারা মৎস্যজীবী না এবং অন্যদিকে তাদের নাম তালিকায় দিয়ে চাল উত্তোলন করা হয়েছে, যা তারা জানেনও না।

Location :

Patuakhali
পটুয়াখালীর ম্যাপ
পটুয়াখালীর ম্যাপ |ফাইল ছবি

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণের তালিকায় প্রবাসীদের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ সানু মোল্লা ও সচিব (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) মুনসুর হেলালের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।

মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বঞ্চিত করে প্রবাসে থাকা ব্যক্তিদের নামে চাল উত্তোলন করা হয়েছে।​ উপজেলা মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে ২৯২ জন জেলের বিপরীতে জনপ্রতি ৮০ কেজি করে মোট ২৩ দশমিক ৩৬ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। গত রোববার (১ মার্চ) এই চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধান তোয়াক্কা না করে চেয়ারম্যান ও সচিব নিজেদের সুবিধামতো একাধিক তালিকা তৈরি করে এই চাল আত্মসাৎ করেছেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, তালিকার ২৭০ থেকে ২৯২ নম্বর ক্রমিক পর্যন্ত ২২ জন ব্যক্তিরা জেলেই না। তালিকার ২৮২ ও ২৮৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা হানিফ মোল্লা ও সেলিম মীর জানান, একদিকে তারা মৎস্যজীবী না এবং অন্যদিকে তাদের নাম তালিকায় দিয়ে চাল উত্তোলন করা হয়েছে, যা তারা জানেনও না।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রকৃত জেলে ইয়াসিন বলেন, ‘তালিকায় আমার নাম থাকা সত্ত্বেও তাকে চাল দেয়া হয়নি।’

স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করেন, সচিব (ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা) মুনসুর হেলালের বাধার কারণে অনেক জেলেরা চাল পাননি। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধলু মিয়ার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো: জাফর মল্লিক জানান, তার ওয়ার্ডে ৪৪ জনের একটি তালিকা করেন। কিন্তু উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ে থেকে তালিকা করে আনা হয়েছে ৮৫ জনের। প্রকৃত জেলে বাদ দিয়ে বাড়তি নাম দিয়ে তালিকা করা হয়েছে। কিন্ত তারা কেউ জেলে না। আরো জানা যায়, ইউনিয়নের তিন ওয়ার্ডে মৎস্যজীবীদের তালিকা করা হয়েছে। যার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বাদে বাকি দুই ওয়ার্ডের মেম্বার জুলাই বিপ্লবের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। চেয়ারম্যান ও সচিব এই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন। চেয়ারম্যান ও সচিব একাধিক তালিকা করে নিজেদের সুবিধা তারা চাল আত্মসাৎ করেছেন।

তিনি আরো জানান, প্রবাসী সদস্যের নামে বরাদ্দের অনিয়ম হয়েছে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে ঢাকায় অবস্থানরত শ্রী মাখম চন্দ্র দাস ও তার ছেলে স্বপন চন্দ্র দাসের নামে চাল তোলা হয়েছে। তারা জেলে না, এমনকি তারা জানেন না যে, তাদের নামে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। এই হিন্দু পরিবারের মাখম চন্দ্রের ছেলে হিসেবে ‘জব্বার’ নামে ছদ্ম মুসলিম ব্যক্তির নাম দিয়ে চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। এছাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নশা হাওলাদার প্রবাসে থাকলেও তার নামে সরকারি চাল উত্তোলন করা হয়েছে।​

৫ নম্বর ওয়ার্ডের জাকির হোসেন ও জলিল হাওলাদার অভিযোগ করেন, ভিজিডি কার্ড করে দেয়ার নাম করে চেয়ারম্যান তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে সচিব মুনসুর হেলাল বলেন, ‘আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। জেলেদের তালিকা মৎস্য অফিস থেকে করা হয়েছে। প্রত্যেক ওয়ার্ডের মেম্বার জানেন। জেলেদের তালিকা অনেক আগে করা। আমি তালিকা অনুযায়ী জেলেদের চাল দিয়েছি।’

মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মো: শহিদুল্লাহ শানু মোল্লার বলেন, ‘আমি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় ছিলাম। কাগজ সচিবের কাছে দিয়ে এসেছি, তিনি কী করছেন জানি না। তবে জেলেদের তালিকায় দুই-একজন নাও পেতে পারে, তারাই আমার বিরুদ্ধে এসব রটাচ্ছে।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তবে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মলিহা খানম বলেন, ‘মৎস্যজীবী যারা আছেন, তাদের জন্য চাল বরাদ্দ আসছে। কোনো অনিয়ম হলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’