নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একাধিক ‘পাগলা’ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে কুকুরগুলো একের পর এক মানুষকে কামড়ে জখম করে। হঠাৎ এই আক্রমণে বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় আহতদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি চারজন হলেন— উপজেলার সদর ইউনিয়নের গদা গ্রামের হাফিজুল ইসলাম (৫০), রুপালী কেশবা গ্রামের নাবিল (১০), মধ্য রাজিব চেংমারী গ্রামের শাহজালাল ইসলাম (৪০) ও মাগুরা ইউনিয়নের সিংঙ্গেরগাড়ি গ্রামের দীপক চন্দ্র রায় (১৯)।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর বাজারে লোকজনের ভিড় বাড়লে কয়েকটি কুকুর হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে একজনকে আক্রমণ করে। পরে লোকজন এগিয়ে এলে কুকুরগুলো সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে বাজারের বিভিন্ন স্থানে আরো মানুষকে কামড়ায়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি কুকুরকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
রুপালী কেশবা গ্রামের মিলন হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে নাবিল বিকেলে ইফতার আনতে বাজারে গেলে কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে হয়েছে।’
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নীল রতন দেব কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন মজুদ নেই। এ কারণে আহতদের জেলা হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’



