সিলেটে ছিনতাই রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে দক্ষিণ সুরমায় খোজারখলা মারকাজ জামে মসজিদের অজুখানা ও টয়লেট নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, ‘অল্প কয়েকদিনে সিলেটে দুঃখজনভাবে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনোটি দিনের বেলায়ও ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্টভাবে বলছি, জণগণের প্রত্যাশার বিপরীতে এ ধরনের ঘটনা রোধে যা যা করা দরকার তা করতে যাতে কোনো বিলম্ব করা না হয়। আমরা এ ধরনের আর একটা ঘটনারও পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘সিলেটকে আমরা শান্তির জনপদে পরিণত করতে চাই। তাই এ ধরনের কোনো ঘটনা আমরা সহ্য করব না। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব যে বা যারাই এ ধরনের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’
এ ধরনের ঘটনা রোধে সচেতন হতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খন্দকার মুক্তাদীর বলেন, ‘প্রত্যেকটি পাড়ায় মানুষকে একটু সচেতন থাকতে হবে। সন্দেহজনক কাউকে দেখতে পেলে দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে জানাবেন। তাহলে এ ধরনের ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘মারকাজ মসজিদ আমাদের সবার জন্যই বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কাছে পবিত্র একটি স্থান। এই মসজিদের উন্নয়ন আমাদের সবার দায়িত্ব। আমি কথা দিয়েছিলাম নির্বাচিত হলে এই মসজিদের উন্নয়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এখন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। আশা করি তার নেতৃত্বে এবং নিবিড় তত্ত্বাবধানে মসজিদের এই প্রকল্প সম্পন্ন হবে। এই মসজিদের যে কোনো প্রয়োজনে আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পাশে থাকব।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট করপোরেশন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নয়। তাই উন্নয়ন কাজের জন্য সরকারের ওপর নির্ভর করতে হয়। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মশামুক্ত, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটি আধুনিক নগর গড়তে চাই। আপনাদের সবার সহযোগিতা পেলে আশা করি একটি সুন্দর নগর গড়তে পারব।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও খোজারখলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আজমল আলী।
প্রসঙ্গত, সিলেট সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে ৬৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো: আলী আকবর, উপসহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত দাশ তালুকদার, জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, মো: মাহবুবুর রহমান সহ মসজিদ কমিটি ও পঞ্চায়েত কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



