ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে নিহত হাসিনুরের বাড়িতে জামায়াত আমির

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হাসিনুর আলমের বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।

সাব্বির আহমেদ লাভলু, লালমনিরহাট
বিএসএফের গুলিতে নিহত হাসিনুরের বাড়িতে জামায়াত আমির
বিএসএফের গুলিতে নিহত হাসিনুরের বাড়িতে জামায়াত আমির |নয়া দিগন্ত

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা সিঙ্গিমারী সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হাসিনুর আলমের বাড়িতে তার বাবা-মা ও স্ত্রীর সাথে দেখা করে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে লালমনিরহাটে জেলা জামায়াতের জনসভা শেষে নীলফামারী যাওয়ার পথে তিনি বিএসএফের গুলিতে নিহত হাসিনুরের শোকাহত পরিবারের খোঁজখবর নেয়ার জন্য তার বাড়ি যান।

এ সময় তিনি জামায়াতের পক্ষ থেকে কার্টুনের বক্সে বিভিন্ন সামগ্রী ও নগদ এক লাখ টাকা সহযোগিতা করেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘সীমান্ত হত্যার এখন পর্যন্ত কোনো বিচার করেনি আমরা কুড়িগ্রামের ফেলানী হত্যার বিচার পাইনি হাসিনুর হত্যার বিচারও তারা করবে না।’

এসময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অনুরোধ করে জানান সীমান্ত হত্যার বিচার যেন বাংলাদেশে হয়।

জামায়াত আমির আরো বলেন, ‘স্বাধীন দেশের সার্বভৌম নিজ ভূমিতে গরুর জন্য ঘাষ কাটতে যাওয়ায় ভারতীয় বিএসএফ তাকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে আহত অবস্থায় টেনেহিঁচড়ে সীমান্তের ওপারে নিয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ সময় তিনি আশ্চর্য হয়ে বলেন একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে কি করে হত্যা করতে পারে।’

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াত আমির মাওলানা রুহুল আমিন, ভোটমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেবু মিয়া, কালিগঞ্জ আদিতমারী লালমনিরহাট-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু, হাতীবান্ধা পাটগ্রাম লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি আনোয়ারুল ইসলাম রাজু ও ও লালমনিরহাট জেলা জামায়াত আমির বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তাহের।

গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পিলার ৮৯৪ নম্বর প্রধান ও ৬ নম্বর সাব-পিলারের নিকটে হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে যায় হাসিবুল ইসলাম। এ সময় ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ফুলবাড়ি ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছুড়ে। এতে গুলি লেগে হাসিবুল মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে রাইফেলের বাট ও হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মেরে টেনে হিঁচড়ে ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় প্রথমে হাসিবুলকে শীতলকুচি থানার স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। সন্ধ্যায় অবস্থার অবনতি হলে কোচবিহারের এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিলে সেখানে মারা যান হাসিবুল।