তাহিরপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট : প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে প্রতিপক্ষের লোকজনের দুই দফা হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আদালত ও থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

Location :

Tahirpur
তাহিরপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট : প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
তাহিরপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট : প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে প্রতিপক্ষের লোকজনের দুই দফা হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আদালত ও থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট বাজারের বাদামপট্টিতে সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে রুমা আক্তার লিখিত বক্তব্যে জানান, উপজেলার ১ নম্বর শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামে গত ১৫ আগস্ট শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরদিন ১৬ আগস্ট একই গ্রামের রান মিয়া ও আলতাবের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আব্দুর নুরসহ তার আত্মীয়স্বজনের ৮-৯টি বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে থাকা লোকজন পরনের কাপড় ও শিশুদের নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারলেও হামলাকারীরা ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে ধান, গরু, নৌকা, মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় রুমা আক্তার বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ দ্রুত বিচার আদালতে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর আবারও ১৭ আগস্ট একই হামলাকারীরা আব্দুর নুরের অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের বসতঘরের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে টিনের বেড়া, শোকেস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। শোকেসের তালা ভেঙে প্রায় ৩ ভরি সোনা, ৬ ভরি রূপা, নগদ ৮০ হাজার টাকা, ১০০ মণ ধান, দুটি ফ্রিজ, তিনটি ষাঁড়, চারটি গাভি গরু, ধান ভাঙানোর মেশিন ও পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তামান্না বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় আছমা খাতুন গত ১৭ আগস্ট তাহিরপুর থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত রেখে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রুমা আক্তার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দাবি জানান, বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রফিক আহমদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।