সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় কাপড়ের দোকানে চাঁদাবাজি করতে গেয়ে কথিত দুইজন সাংবাদিক স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়েছেন। পরে তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পুলিশ জানায়, লাকি বস্ত্রালয় নামে একটি কাপড়ের দোকানের মালিক নিরঞ্জন দাশ উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজারে একটি দোকান কেনেন। ওই দোকানের শাটার পাল্টানোর সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে আলমগীর হোসেন ও রবিউল ইসলাম নামে দুইজন কথিত সাংবাদিক সেখানে গিয়ে দোকান মালিকের কাছে নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জানতে চান সরকারি চান্দিয়ানা জায়গায় দোকানের শাটার পাল্টাচ্ছেন সরকারি অনুমতি নিয়েছেন কিনা। এ সময় দোকান মালিক জানান, আজ শনিবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকার কারণে নিতে পারেননি। এ সময় তারা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। না দিলে কাজ করতে পারবেন না বলে জানায়।
এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে দুজনকে আটক করলে কথিত সাংবাদিক আলমগীর কৌশলে পালিয়ে যান। পরে সেখানে থাকা কথিত সাংবাদিক রবিউলকে ছাড়ানোর জন্য বাইরে তদারকি করতে থাকা তাদের আরেক সঙ্গী কথিত সাংবাদিক শেখ মাসুদ হোসেন মনি সেখানে হাজির হলে উত্তেজিত জনতা তাকেও আটকে ফেলে। এবং দুজনকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পাটকেলঘাটা থানায় হস্তান্তর করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা বলতে থাকেন, কিছুদিন আগে এই সাংবাদিক শেখ মাসুদ হোসেন মনি এখান থেকে সাত হাজার টাকা নিয়ে যান।
কথিত সাংবাদিক মাসুদ হোসেন মনি সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার চৌগাছা গ্রামের মৃত শেখ আবু বক্করের ছেলে বলে জানা গেছে। তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত সোনালি কণ্ঠ পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ও সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত সাতক্ষীরা সংবাদের প্রতিনিধি বলে জানান।
অপরদিকে কথিত সাংবাদিক রবিউল ইসলাম যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার মৃত তোরাব আলীর ছেলে বলে জানা যায়। তিনি নিজেকে সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত সাতক্ষীরা সংবাদের নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম লুৎফুর কবির জানান, ‘এখনো কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আমরা মামলা নিব।’



