পানিসম্পদ মন্ত্রী

কৃষককে বাঁচাতে খাল খননের বিকল্প নেই

দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, সারাদেশে সেচব্যবস্থায় ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি |নয়া দিগন্ত

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপলব্ধি করতে পেরেছেন বাংলাদেশকে রক্ষা এবং কৃষককে যদি বাঁচাতে হয় তাহলে খাল খনন ও পুনরুদ্ধার ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি একটি বিপ্লব ছিল। এই বিপ্লবের সমাপ্তি হয়নি। যদি এটি জিয়াউর রহমানের চিন্তাভাবনা অনুযায়ী সমাপ্ত হতো, তাহলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ অব্যাহত থাকতো। খাল খননের অসমাপ্ত কাজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমাপ্ত হবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ী মোড়ে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

এর আগে, মন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

ইছেরদাড়ী মোড় থেকে‌ সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। তলদেশের গড় প্রশস্থতা সাত মিটার ও গড় গভীরতা এক দশমিক পাঁচ মিটার করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাঁচ হাজার দুই শ’ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

এ্যানি বলেন, ‘দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, সারাদেশে সেচব্যবস্থায় ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে আমরা দেখেছি পুরনো খালগুলো আর খাল নেই। সেই খালগুলো তারা অনেককে লিজ দিয়েছেন আবার অনেককে আবাদ করার অধিকার দিয়েছেন। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ৮০ সাল পর্যন্ত খাল কেটে শুধু মরুভূমি থেকে সুরক্ষা নয়, বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে বিদেশে খাদ্য রফতানি করেছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলেন আমরা ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে নদী, খাল, জলাশয় খনন, পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধার করা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পরই কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় এক হাজার পাঁচ শ’ কোটি টাকা। এর মূল উদ্দেশ্য কৃষকদের উৎসাহ দেয়া। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ, কৃষিই দেশের অর্থনীতির চাবিকাঠি। সরকার কৃষকদের সহায়তা করতে চায়, যাতে তারা ফসল উৎপাদন বাড়াতে পারেন।’

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের যে জীববৈচিত্র্য পরিবর্তন, পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণ হলো হাজার হাজার বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পাঁচ বছরে আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব। আমরা যেখানে খাল খনন করব, তার পাশে বৃক্ষরোপণ করব। খালে আমরা আগে মাছ পেতাম। আমরা সেই মৎস্য চাষ শুরু করব। সাধারণ কৃষক খালে হাঁস চাষ করতে পারবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন খাল খননে আমরা শুধু ড্রেজার নির্ভর না হয়ে শ্রমিক হিসেবে নারী-পুরুষকে যুক্ত করা হবে। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে খনন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে বর্ষা মৌসুমের আগেই জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদনে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়।’

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘খাল খননে কোনো রকম অনিয়ম করা যাবে না। খাল খনন, জলাশয় পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স বজায় রাখব। এ ক্ষেত্রে আমরা কোনো আপস করব না। এ ব্যাপারে আমরা জনগণের সহযোগিতা চাই।’

খাল খনন কর্মসূচি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: শরীফুজ্জামান শরীফ, চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক কর্মকর্তা, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতৃরা উপস্থিত ছিলেন।