সিলেটে আইফোনের জন্য বন্ধু খুন, টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার ১

তিনি ও এজাহারনামীয় দ্বিতীয় আসামি সাজিদুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো দুই থেকে তিনজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইমন আহমদকে বিয়ানীবাজার থানাধীন শেওলা ইউনিয়নের শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে তার গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ দাবি করে। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়া হয় এবং তার ব্যবহৃত একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স মোবাইলফোন নিয়ে যাওয়া হয়।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
গ্রেফতার সাজিদুল ইসলাম মুন্না
গ্রেফতার সাজিদুল ইসলাম মুন্না |নয়া দিগন্ত

সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি আইফানের জন্য বন্ধুকে খুনের ঘটনায় মামলার পলাতক আসামিকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ ও র‌্যাব-১৪-এর যৌথ অভিযানে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানাধীন কদমতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ওই আসামির নাম সাজিদুল ইসলাম মুন্না (২৩)। তিনি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার দেলুটিয়া এলাকার মো: ইব্রাহিমের ছেলে।

পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতার আসামিকে বিয়ানীবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে র‌্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানাধীন খশির নামনগর এলাকার বাসিন্দা ইমন আহমদ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বৈরাগীবাজারের উদ্দেশে বের হন। পরে তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ জিডি (ডায়েরি) করা হয়।

ওই জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি জানান, তিনি ও এজাহারনামীয় দ্বিতীয় আসামি সাজিদুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো দুই থেকে তিনজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইমন আহমদকে বিয়ানীবাজার থানাধীন শেওলা ইউনিয়নের শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে তার গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ দাবি করে।

পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়া হয় এবং তার ব্যবহৃত একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স মোবাইলফোন নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, আটক ব্যক্তির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টা দশ মিনিটে শেওলা ইউনিয়নের শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইমন আহমদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এর আগে, ঘটনার পরপরই গত বছরের ১০ ডিসেম্বর একজনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তি হলেন— একই ইউনিয়নের আব্দুল করিম মনাইরের ছেলে আশরাফুল (২৩)।

তখন স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, নিহত ইমন আহমদের ব্যবহৃত একটি আইফোনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক জানিয়েছিলেন, আশরাফুল ও ইমন সবসময় একসাথে চলাফেরা করতেন। ইমনের আইফোনটি নেয়ার বিষয়ে কয়েকজনের যোগসাজশে তার বন্ধু ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে।