সরকারি ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সিলেট প্রেস ক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিল যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বক্তারা রাজনৈতিক ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় মিডিয়া ন্যায্য ভূমিকা পালন করলে দেশ এগিয়ে যাবে। তোষামোদী সাংবাদিকতা দেশকে পথভ্রষ্ট করতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন। অতীতে সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধানে প্রেসক্লাবের ভূমিকার কথা স্মরণ করে ভবিষ্যতেও সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
প্রেস ক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা ও ওকাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট এম মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি পারভিন এফ চৌধুরী, এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রকিব, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটে নিযুক্ত সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ রায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো.সারওয়ার আলম।
অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক সংঘাত পরিহার করে সমঝোতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের ফল প্রত্যাশিত না হলেও আমরা সংঘাতের পথে যাইনি। দেশে ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা তৈরি হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন সমাধান বয়ে আনে না; বরং ইতিবাচক রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত। সংসদের ভেতরে-বাইরে দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও জোর দেন তিনি।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের সমাজের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ উল্লেখ করে বলেন, “মিডিয়া কেবল সরকারের গুণগান গাইবে না; ভুল হলে তা তুলে ধরবে। সেদিনই তারা প্রকৃত অর্থে সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হবে।” তিনি ‘নিউজ’ ও ‘ভিউজ’-এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বন্ধ হবে না বলে পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন হয়েছে এবং দ্রুত কাজ দৃশ্যমান হবে। সিলেটে বিমান ফ্লাইটসংক্রান্ত সমস্যাও সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “সাংবাদিকদের সহযোগিতায় আমরা ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি গড়তে চাই।” দায়িত্ব পালনে সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী সিলেট-ঢাকা যোগাযোগব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন, বিমানভাড়া হ্রাস এবং সিলেট-বার্মিংহাম ফ্লাইট চালুর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ রায় রমজানের শুভেচ্ছা জানান।
ইফতার মাহফিলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট পুলিশ সুপার কাজী আখতারুল আলম, সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপার্সন এমএস সেকিল চৌধুরী, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বারের সাবেক সভাপতি ও প্রেসক্লাবের আইন উপদেষ্টা এমাদ উল্যাহ শহিদুল ইসলাম, শাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ, ডিজিএফআইয়ের ডেপুটি পরিচালক আবু সাদাত মো. সায়েম, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ, যমুনা অয়েল কোম্পানির পরিচালক সালেহ আহমদ খসরু, সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়া, আটাবের সাবেক সভাপতি রেজওয়ান আহমদ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমদ, বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা পুলিন রায়, জেলা বিএনপি নেতা আজমল বক্ত সাদেক, শেখ ফারুক আহমদ, জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী কলেজের অধ্যক্ষ মফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকবৃন্দসহ সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ।প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষাঙ্গন, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, “সিলেটের সাংবাদিকতার ঐতিহ্য বজায় রেখে আমরা পেশাদার ও ইতিবাচক সাংবাদিকতা এগিয়ে নিতে চাই।” এ লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ইফতার মাহফিলটি রাজনৈতিক ভিন্নমত সত্ত্বেও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং সিলেটের সামাজিক সম্প্রীতির ধারাকে আরও জোরদার করবে বলে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন।



