সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক পরিকল্পনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘অপরিকল্পিত উন্নয়ন, জনবল সঙ্কট এবং সঠিক সমন্বয়ের অভাবে সিলেটে নির্মিত অনেক স্বাস্থ্য অবকাঠামো কাঙ্ক্ষিতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না।’
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্য সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটে স্বাস্থ্য খাতে অনেক ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সবগুলো এখনো কাঙ্ক্ষিতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। এসব অবকাঠামোকে জনগণের কার্যকর সেবায় কাজে লাগাতে হবে। আজকের এই পর্যালোচনা সভার মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ বের করতে হবে।’
সরকারি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। সময় স্বল্পতা থাকলেও সরকার বাজেটে কয়েকটি মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া। আর মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান দু’টি ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় আয়ের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশ করে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা দুর্বলতা রয়েছে। অনেক সময় বরাদ্দের পুরো অর্থ জনগণের কল্যাণে কাজে লাগে না। পরিকল্পনার অভাব এবং বাস্তবায়নের দুর্বলতার কারণে অনেক প্রকল্প প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারে না।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং এটি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যখাতের সব প্রতিষ্ঠানকে আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। সমন্বিতভাবে কাজ করলে সিলেটকে দেশের অন্যতম চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা: মো: জিয়াউর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিভাগীয় কমিশনার মো: মশিউর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা: উমর রাশেদ মুনির, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: নুরে আলম শামীম, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: মো: নাসির উদ্দিন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো: জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


