ডা: শফিকুর রহমান

বেকার ভাতা দিয়ে বেইজ্জতি করব না, হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেবো

ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে হেয় করা হবে। কারো সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হবে না। কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না। দেশকে বিভক্ত করতে দেয়া হবে না।

এম এ মজিদ, হবিগঞ্জ

Location :

Habiganj
জামায়াত আমির
জামায়াত আমির |নয়া দিগন্ত

হবিগঞ্জের নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘১১ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে কারো হাতে বেকার ভাতার কার্ড দিয়ে বেইজ্জতি করা হবে না, যুবক কর্মক্ষম মানুষের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেয়া হবে। কাজ করে তারা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। গ্রামে গ্রামে কৃষি ভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তুলা হবে, গ্রামকে শিল্প বানানো হবে। মানুষ নিজের এলাকায় থেকে মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারবে।’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) হবিগঞ্জের নিউফিল্ড ময়দানে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কেউ পীর, দরবেশ, মুফতি হয়ে মানুষের কাছে ভোট চায়, আসলে তারা প্রতারক। ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে হেয় করা হবে। কারো সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হবে না। কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না। দেশকে বিভক্ত করতে দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাগজের সার্টিফিকেট সরবরাহের মাধ্যম না বানিয়ে অভিজ্ঞ মানুষ তৈরীর প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলা হবে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আমাদের কেউ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেবেন না। স্বল্পমূল্যে প্লট ফ্ল্যাট নেবেন না। প্রতিবছর সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দিতে বাধ্য থাকবেন। ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী কোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ছিল না কিন্তু এই সময়ের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে মানুষের পাশে থাকতে হয়। ক্ষমতা পেলে সেই দায়িত্ব আরো বেড়ে যাবে, মানুষকে ফেলে আমরা কোথাও পালিয়ে যাব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘৫৪ বছরের একটি দেশ উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছে, কিন্তু দুর্নীতির কারণে দেশ এগুতে পারেনি। ২৮ লক্ষ কোটি টাকা শুধু ১৫ বছরেই বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখনো বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হয়, চাঁদাবাজি হয়, মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন হয়। এসব অপরাধের সুযোগ করে দেয়ার জন্য ১৯৭১ সালে আমার ভাইসহ লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধ করেনি।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটির উপরে সম্পদ, নিচে সম্পদ, পানিতে সম্পদ, পানির গভীরে সম্পদ, এদেশ উন্নয়নের উঁচ্চ শিখরে না পৌঁছার কোনো কারণ ছিল না, দুর্নীতি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মামলাবাজদের হাত ভেঙে দেয়া হবে। হবিগঞ্জ জেলাকে দেখলে মনে হয় হবিগঞ্জের সাথে সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ করা হয়েছে, নিজস্ব কোনো ক্যাম্পাস নেই। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। চা বাগান আছে কিন্তু চা শ্রমিকদের জীবন মানের উন্নতি করা হয়নি। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে উন্নয়ন বঞ্চিত জেলাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।’

হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হবিগঞ্জ-১ আসনে রিকশা প্রতীকে এমপি প্রার্থী খেলাফত মজলিশের মুফতি সিরাজুল ইসলাম, হবিগঞ্জ-২ আসনে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে এমপি প্রার্থী মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, হবিগঞ্জ-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াত মনোনিত প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদ, হবিগঞ্জ-৪ আসনে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের এমপি প্রার্থী ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির জিএস মাজহারুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ থেকে সদ্য জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী নেতা অ্যাডভোকেট চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান, নেজামে ইসলামী পার্টির সিলেট মহানগরীর সেক্রেটারি জুবায়ের আহমেদ খান, জুলাই যোদ্ধা আবু শাহেদ, জুলাই যোদ্ধা মুহিত মিয়া, এনসিপি হবিগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক সাবেক ভিপি আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রমুখ।