সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মাহদি আক্তার তুহা (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরো ১৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল হক এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জালালের মেয়ে মাহদি আক্তার তুহা।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে নতুন করে ১২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০৯ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৫ জনে। এর মধ্যে সিলেটে ৩১১, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৪ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন।
নিশ্চিত হাম শনাক্তের দিক থেকে সুনামগঞ্জ শীর্ষে রয়েছে। এরপর সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। হবিগঞ্জে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দু‘জন রুবেলা রোগী রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাবে, চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে ১৩৬ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ছয় জনের। বাকি ১৩০ জনের মৃত্যু হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে। সেখানে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের। সিলেটে ৫১, হবিগঞ্জে ১৭ ও মৌলভীবাজারে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩০৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১১২ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০৯ জন, রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৭ জন, মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে একজন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন ভর্তি রয়েছেন।
প্রতিদিন নতুন করে হাম রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে সন্দেহজনক রোগীর চাপ বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিকভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরো বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যু ও হাসপাতালে রোগীর চাপ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।



