মাদারীপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বসতঘরে আগুন

মঙ্গলবার ( ১০ মার্চ) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগুন ধরিয়ে পুড়ে গেছে জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ অন্তত ২০টি বসতঘর।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রতিপক্ষের একাধিক বসতঘরে আগুন দেয় জনতা
মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রতিপক্ষের একাধিক বসতঘরে আগুন দেয় জনতা |নয়া দিগন্ত

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র ঘরে ঢুকে ওয়াইফাই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের একাধিক বসতঘরে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা।

মঙ্গলবার ( ১০ মার্চ) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগুন ধরিয়ে পুড়ে গেছে জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ অন্তত ২০টি বসতঘর।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আধ্যিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সাথে একই এলাকার হাসান মুন্সির বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলদারের চাচাতো ভাই আলমগীর হাওলাদারের বসতঘরে ঢুকে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সির লোকজন। এ সময় আলমগীরকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। বাধা দেয়ায় নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটও করে হামলাকারীরা। পরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। বিকেলে সম্পন্ন হয় ময়না তদন্ত।

নিহত আলমগীর হাওলাদার নতুন মাদারীপুর এলাকার হাফেজ হাওলাদারের ছেলে।

আলমগীর হত্যার জেরে বিক্ষুব্ধ জনতা সন্ধ্যার পর হামলাকারীদের কয়েকটি বসতঘরে আগুন দেয়। তবে সড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয়ায় রাত সাড়ে ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যর ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ইট ও গাছ ফেলে ঘটনাস্থলে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় বেগ পোহাতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চালানো হচ্ছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ফায়ার সার্ভিসের যৌথ অভিযান।

উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সদর উপজেলার 'নতুন মাদারীপুর' গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার পক্ষ ও হাসান মুন্সী পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। তবে বিগত বছরগুলোতে এলাকা কিছুটা শান্ত থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দুইপক্ষ। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ শ্রমিক দলের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়, ঘটে শত শত ককটেল বিস্ফোরণ। কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসান মুন্সীর ভাই সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি শাকিল মুন্সীকে। এরই জের ধরে মঙ্গলবার সকালে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারের বসতবাড়িতে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সির লোকজন। এসময় আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মাসুদ বেপারী নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।