উলিপুরে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৩

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মধুপুর এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে তার ছোট ভাই আব্দুর রহমানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে শনিবার দুপুরে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Ulipur

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মধুপুর এলাকায় এক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দিকে। এ ঘটনায় নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (৩১ মে) ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মধুপুর এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে তার ছোট ভাই আব্দুর রহমানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে শনিবার দুপুরে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা বাড়ির সদস্যদের মারধর করে জিম্মি করে রাখে এবং ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। একই সাথে ধান, নগদ অর্থ, গৃহস্থালী সামগ্রী ও হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। হামলায় আবু বক্কর সিদ্দিক, তার স্ত্রী সাহিদা বেগম ও ছেলে ফুল মিয়া আহত হন।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হককে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ৩৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “কোনো উসকানি ছাড়াই আমাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। আমার স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। লুট হওয়া মালামাল ফেরত না পেলে চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আমি নিজ বাড়িতে ছিলাম। কেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”

উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. তানজিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ আহত তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের মধ্যে সাহিদা বেগমের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।