গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে বিসমিল্লাহ বাদ পড়ার প্রচারণা সম্পূর্ণ গুজব : প্রেস সচিব

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Location :

Brahmanbaria
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে মোহাম্মদ শফিকুল আলম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে মোহাম্মদ শফিকুল আলম |নয়া দিগন্ত

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ব্যালটে ‘বিসমিল্লাহ’ থাকবে না—এমন প্রচারণাকে সম্পূর্ণ গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে নির্বাচন সমন্বয়কারী ড. আলী রীয়াজ আগেই পরিষ্কার বক্তব্য দিয়েছেন। তবুও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না। মনিটরিং, সার্ভে কিংবা গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে যেখানে ন্যূনতম অস্ত্রের অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া যাবে, সেখানেই তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন কুমার দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: ওবায়দুল হাসান, সদর থানার ওসি মো: শহিদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সহ-সভাপতি ইব্রাহিম খান সাদাতসহ জেলায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

মতবিনিময় সভায় প্রেস সচিব আরো বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের তৎপরতাকে কোনোভাবেই নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। এ নিয়ে জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো চাপ নেই উল্লেখ করে মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক মহল থেকে কোনো চাপ আসেনি। কেউ এসে বলেনি যে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতেই হবে। খুন, গুম, লুটপাটসহ যেসব অপরাধ তারা করেছে, তা শুধু আমরা নয়—পুরো বিশ্ব জানে। ফলে তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর মতো অবস্থায় কেউ নেই।’

ভোট কারচুপির আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোট কারচুপি হওয়ার সম্ভাবনা জিরো পারসেন্ট। সরকার বা প্রশাসনের কারো ক্ষমতায় থাকার কোনো ইচ্ছা নেই। তাই এ নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই।’

জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের জঙ্গি আখ্যা দেয়া হয়েছে, অথচ বাস্তবে ছাত্র-জনতা ও নারীরা রাজপথে নেমেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো কনজারভেটিভ এলাকাতেও নারীরা সামনের সারিতে ছিল।’ এরপরও সবাইকে জঙ্গি বললে জনগণ কিভাবে তাদের পক্ষে থাকবে—সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন মনিটরিংয়ের জন্য একটি অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশী বন্ধুরা নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

খুব ভালো, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংশয় ও গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব মূলত টিকটক ও ইউটিউব থেকে ছড়ানো হচ্ছে। বাস্তবে কারো ক্ষমতা নেই নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার। গত নভেম্বরে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ কী করতে পারে, এখন তাদের ডাকে মানুষ রাস্তায় নামে না।’

এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সড়কপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর তিনি আখাউড়ার খরমপুরে একটি মাজার পরিদর্শন করেন।