চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল

অননুমোদিত প্র্যাকটিস ও রোগী ভাগানোর অভিযোগ বিসিএস-বহির্ভূত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে

সরকারি পদে নিয়োগ না থাকা কিংবা বিসিএস ক্যাডার না হওয়া সত্ত্বেও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ‘বিশেষ সুবিধায়’ রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে ফারুক হোসেন নামের এক বেসরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

Location :

Chuadanga
অননুমোদিত প্র্যাকটিস ও রোগী ভাগানোর অভিযোগ বিসিএস-বহির্ভূত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে
অননুমোদিত প্র্যাকটিস ও রোগী ভাগানোর অভিযোগ বিসিএস-বহির্ভূত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে |নয়া দিগন্ত

এফএ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

সরকারি পদে নিয়োগ না থাকা কিংবা বিসিএস ক্যাডার না হওয়া সত্ত্বেও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ‘বিশেষ সুবিধায়’ রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে ফারুক হোসেন নামের এক বেসরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

শুধু তা-ই নয়, সরকারি হাসপাতালে বসে বিনামূল্যে সেবা দেয়ার আড়ালে সদর হাসপাতালের সামনেই অবস্থিত তার নিজস্ব ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের বাসিন্দা ডা: ফারুক হোসেন এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হলেও তিনি সরকারি কোনো চিকিৎসক নন এবং সদর হাসপাতালেও তার কোনো দাফতরিক নিয়োগ নেই। তা সত্ত্বেও বিগত তিন বছর ধরে (সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি সেলুন কোটায়) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে তার ব্যবহারের জন্য একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) কক্ষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। হাসপাতালটিতে চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের একজন নিজস্ব সরকারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি এই চিকিৎসককে বিশেষ সুযোগ দেয়া নিয়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় অন্য বেসরকারি চিকিৎসকরা বিভিন্ন সময় সদর হাসপাতালে স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে সেবা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। অথচ অজ্ঞাত কারণে ডা: ফারুক হোসেনের বেলায় তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক চিকিৎসক চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের কোনো পদের পরিচয় ছাড়া ফারুক হোসেন এখানে বসেন কোন এখতিয়ারে? সরকারি প্রতিষ্ঠানে বসে নিজের মালিকানাধীন লাভলী টাওয়ারের ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া সম্পূর্ণ নীতিবহির্ভূত।’

অপর এক অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক অভিযোগ করে জানান, ফারুক হোসেন এখানে মূলত নিজের ব্যক্তিস্বার্থ ও ব্যবসার খাতিরে রোগী টানেন।

অভিযোগের বিষয়ে ডা: ফারুক হোসেন জানান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের লিখিত আদেশের ভিত্তিতেই তিনি রোগী দেখেন। তবে লিখিত অনুমোদনের কোনো কপি বা কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে, একজন বেসরকারি চিকিৎসককে কিসের ভিত্তিতে এবং কোন আদেশে দীর্ঘ তিন বছর ধরে সরকারি হাসপাতালে এমন বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে—এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।