জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে নতুন সংশোধন আসছে : ভিসি

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং প্রায় আড়াই হাজার অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহ নগরীর তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ
ময়মনসিংহ নগরীর তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ |সংগৃহীত

পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও নকল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি শিক্ষা কারিকুলামে আবারও সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, কারিকুলাম ইতোমধ্যে দুই দফা সংশোধন হয়েছে এবং তৃতীয় দফার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে কর্মমুখী শিক্ষা জোরদারে ট্রেড কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে নগরীর টাউন হল এলাকায় তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভিসি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩৯টি সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এর কিছু ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু প্রক্রিয়াধীন এবং বাকিগুলো বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আইন পাসের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। উচ্চশিক্ষাকে সুসংগঠিত কাঠামোয় আনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত সুযোগ সৃষ্টি ছিল এর মূল লক্ষ্য। তবে সেই প্রত্যাশা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে ভিসি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী এক দশকে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী বেকার থাকার ঝুঁকিতে পড়বে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং প্রায় আড়াই হাজার অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন।

এ পরিস্থিতি উত্তরণে তিনি সিলেবাস যুগোপযোগী করা, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ল্যাব সুবিধা উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানমুখী বিষয় অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল নির্দেশ দিয়ে নয়, প্রণোদনা তৈরি করে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

ভিসি আরো বলেন, অনেক শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বোর্ড’ হিসেবে বিবেচনা করে, যা পরিবর্তন করে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে কাজ চলছে।

ইংরেজি ও আইসিটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হলেও অনেক কলেজে শিক্ষক ও ল্যাবের অভাব রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে কম্পিউটার সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, কলেজ মনিটরিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অডিট চালুর বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে ৩০০টি জাতীয় পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আনন্দমোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শাকির হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন এবং ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান। এছাড়া বক্তব্য দেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী।

এর আগে, নগরীর মধ্য বাড়েরা আদুর বাড়ি বাইলেনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়।