শ্রীনগর উপজেলার কামারগাঁও আইডিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: আজিম খানকে তার কর্মস্থলে যোগদানে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকালের দিকে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষে নৈশপ্রহরী এমারত হোসেন প্রধান শিক্ষককে বাঁধা দান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান লিয়াকত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র দাখিল করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মব সৃষ্টি করে জোরপূর্বক তাদের তৈরি একটি পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
বিষয়টি জানতে পেরে তৎকালীন ইউএনও পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেননি। এরই ধারাবাহিকতায় নিয়মিতভাবে মো: আজিম খান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। পরে এডহক কমিটির সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর খান গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জোরপূর্বর রেজুলেশন খাতাটি ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষককে চাপ সৃষ্টি করে ছুটিতে পাঠান তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি ও ভাগ্যকুল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম খান লিয়াকত ও বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো: জাহাঙ্গীর খানের কারসাজিতে ওই বিদ্যালয়ের নানান ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় ধামাচাপা দিতেই বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো: আজিম খানকে বিতাড়িত করতে উঠেপড়ে লাগছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কামারগাঁও আইডিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: আজিম খান বলেন, নিয়ম মেনে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাকে নানাভাবে বিদ্যালয়ের কর্মচারী ও মেয়াদ উর্ত্তীণ এডহক কমিটির সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর খান এবং বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান লিয়াকত প্রকাশ্যে ও আড়ালে থেকে আমাকে সরানোর জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছি।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান লিয়াকত খানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক অসুস্থ তাই তাকে আমরা সবাই মিলে অব্যাহতি দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মুন্সীগঞ্জ মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের পত্র (স্মারক নম্বর-সিএসমুন/মেডিক্যাল বোর্ড/২০২৫/৯৪৬৯ সিভিল সার্জন কার্যালয় মুন্সীগঞ্জ) মোতাবেক প্রধান শিক্ষক মো: আজিম খান শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
অপরদিকে, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিসার মুন্সীগঞ্জ পত্র মোতাবেক এক চিঠিতে বলা হয় প্রধান শিক্ষক মো: আজিম খান তার দায়িত্ব পালনে সক্ষম।



