বাম্পার ফলনেও বরিশালে তরমুজের দাম চড়া

বরিশালে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে অস্বাভাবিক উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সুস্বাদু জনপ্রিয় এই ফলটি। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে তরমুজ।

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
বাম্পার ফলনেও বরিশালে তরমুজের দাম চড়া
বাম্পার ফলনেও বরিশালে তরমুজের দাম চড়া |নয়া দিগন্ত

বরিশালে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে অস্বাভাবিক উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সুস্বাদু জনপ্রিয় এই ফলটি। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে তরমুজ।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে তরমুজের দাম কিছুটা বেশি থাকে, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়লে দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আগাম অপরিপক্ক তরমুজ বাজারে তুলে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন, যা অনৈতিক।

নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে প্রতিটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

তরমুজ কিনতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়া ক্রেতা আব্দুল হক মানিক বলেন, ‘তরমুজ কিনতে এসেছিলাম, কিন্তু যে দাম তাতে না কিনেই ফিরে যেতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে এ দামে তরমুজ কেনা কঠিন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বরিশালে ১ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল। এতে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪১ টন হারে মোট ৪৮ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়।

চলতি বছর বরিশালের ১০টি উপজেলায় তরমুজের আবাদ বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে। এতে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৯০৫ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে লক্ষমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষিবিদরা।

ভোলার তরমুজ চাষি রিপন জানান, দূরবর্তী চরফ্যাশন থেকে এক ট্রলার তরমুজ নিয়ে বরিশাল পোর্ট রোড ঘাটে এসেছেন তিনি। কিন্তু প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেক সময় বসে থাকতে হচ্ছে।

গলাচিপার চরকাজল এলাকার তরমুজ চাষি আব্বাস সরদার বলেন, ‘১২৮ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। কয়েক চালান বিক্রি করেছি। মাঝারি সাইজের এক ট্রলার তরমুজ নিয়ে বরিশাল পোর্ট ঘাটে এসেছিলাম। ১৯ হাজার ৫০০ টাকায় পুরো চালান বিক্রি করেছি। প্রতি তরমুজ প্রায় ৯৫ টাকা করে পড়েছে। খরচ বাদ দিলে খুব বেশি লাভ থাকে না।’

তরমুজ চাষি কালু বেপারী বলেন, ‘এখনো পুরো মৌসুম শুরু হয়নি। সামনে আরো তরমুজ উঠবে। তখন বাজারে সরবরাহ বাড়লে দামও কমে যাবে।’

তরমুজ পরিবহন ও ওঠানামার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মো: হাসান বলেন, ‘প্রতিদিনই ঘাটে তরমুজের ট্রলার আসছে। কিন্তু অনেক সময় দাম নিয়ে কৃষক ও আড়ৎদারদের মধ্যে দরকষাকষি চলে।’

বরিশাল পোর্ট রোডের তরমুজ আড়ৎদার রফিকুল ও সাইফুল বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে তরমুজের দাম একটু বেশি থাকে। এখনো সব এলাকার তরমুজ পুরোপুরি বাজারে আসেনি। সামনে সরবরাহ বাড়লে দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

পোর্টরোডের মনোয়ারা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে তরমুজের দাম একটু বেশি। তবে সময় বাড়ার সাথে সাথেই তরমুজের দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মো: মামুনুর রহমান বলেন, ‘এ বছর জেলায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আগাম অপরিপক্ক তরমুজ বাজারে তুলে বেশি দামে বিক্রি করছেন। বাজারে পরিপক্ক তরমুজ ওঠার সাথে সাথেই দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘উৎপাদন বাড়লেও বাজার ব্যবস্থাপনা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে অনেক সময় কৃষক ন্যায্যমূল্য পান না, আবার ভোক্তাদেরও বেশি দাম গুনতে হয়। তাই কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থে বাজার তদারকি জোরদারের দাবি উঠেছে।