রংপুর ব্যুরো
রংপুরে জাতীয় পার্টি ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি, হট্টগোল ও অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে পীরগাছার সরেয়ার তল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রংপুর-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে গুঞ্জরখাঁ এলাকায় আইন ভঙ্গ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রংপুর-৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের পথ রোধ করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এনিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোল হলে এনসিপির লোকজন গাড়ির চাবি কেড়ে নেয়। পরে সেখানে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এসে হামলা চালায় এবং স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মনজুরুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় এনসিপি কর্মী আব্দুল্লাহ আল সাঈদ শামীম, বিপ্লবের মাথা ফেটে যায়। তাদেরকে মুমূর্ষ অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থ্লে উপস্থিত হয় সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ। অবরুদ্ধ মনজুরুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের অভিযোগ, আমি একটি জানাজায় যাওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু এনসিপির নেতাকর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মব তৈরির মাধ্যমে একতরফা ইলেকশন করার জন্য আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার গাড়ি ও পথরোধ করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মাহবুব অভিযোগ করেন, এ ঘটনার মাধ্যমে এনসিপি নেতাকর্মীরা প্রমাণ করেছে তারা মব তৈরীর মাধ্যমে ইলেকশনকে বানচাল করতে চায়। তিনি প্রশাসনের কাছে বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
অন্যদিকে এনসিপি পীরগাছার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেছেন, আইন অমান্য করে সাবেক মন্ত্রী টিপু মুন্সির দোসর জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান বিভিন্ন জায়গায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তা থেকে বিরত রাখার জন্যই তার পথরোধ করেছিল এলাকাবাসী। খবর পেয়ে সেখানে এমসিপি নেতাকর্মীরা যায়। মাহবুবের নির্দেশে তার গুন্ডাবাহিনী এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারধর করেছে। অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তারাই মব সৃষ্টি করে এখন আমাদের গায়ে চাপাচ্ছে। ওই প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী টিপু মুন্সির দোসর। এখনো প্রশাসনের সামনেই তারা আইন ভাঙছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রংপুর মহানগর মাহিগঞ্জ থানার ওসি মাইদুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।



