খানসামায় রসুন ক্ষেতে বিষ স্প্রে করে ফসল নষ্টের অভিযোগ

অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন এবং জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছিলেন।

জসিম উদ্দিন, খানসামা (দিনাজপুর)

Location :

Dinajpur
রসুন ক্ষেতে বিষ স্প্রে
রসুন ক্ষেতে বিষ স্প্রে |নয়া দিগন্ত

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় এক কৃষকের রসুন ক্ষেতে রাতের আঁধারে বিষ স্প্রে করে ফসল নষ্টের অভিযোগ উঠেছে খামারপাড়া ইউনিয়নের কায়েমপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজলে রহমান এবং তার দুই ছেলে মাহাবুর রহমান ও মাসুদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই ইউনিয়নের জোয়ার গ্রামের বাসিন্দা মো: আব্দুল মালেক (৪৮) দীর্ঘদিন ধরে কায়েমপুর মৌজার ২৬ শতক জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন। জমিটি প্রফেসর ডা: মো: আফজাল হোসেন ও মো: আবু হুসাইন সিদ্দিকীর পৈত্রিক সম্পত্তি। জমির মালিকরা অন্যত্র বসবাস ও কর্মব্যস্ততার কারণে জমিটি দেখভাল করতে না পারায় আব্দুল মালেককে বর্গা হিসেবে দেন।

ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মালেক জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ওই জমিতে রসুন চাষ করেন। তবে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন এবং জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছিলেন।

রাতের আঁধারে রসুন ক্ষেতে বিষ দেয়া হয়। ফলে ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরদিন বিকেলে ক্ষেতে গিয়ে তিনি দেখতে পান রসুন গাছগুলো কুঁকড়ে গেছে ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন আব্দুল মালেক। এ সময় অভিযুক্তরা যেকোনো মূল্যে জমিটি নিজেদের দখলে নেয়ার হুমকিও দেন।

এ ঘটনায় প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী কৃষকের।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা গোলাপ হোসেন, হাফিজুল ইসলাম ও হাসেন আলী জানান, ঘটনার দিন রাতে তারা অভিযুক্তদের পিঠে করে ওষুধের জারকিন নিয়ে তাড়াহুড়া করে ক্ষেতের দিক থেকে আসতে দেখেছেন।

তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ফজলে ও মাহবুর রহমান জানান, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা কারো ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করিনি। কোনো ফসলও নষ্ট করিনি। আমাদেরকে ফাঁসানো হচ্ছে।’

পরবর্তীতে ঘটনার বিষয়ে জমির মালিকদের সাথে আলোচনা করে ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’