নাটোরের লালপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ছাড়াই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ওই হাসপাতাল মালিককে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার মুক্তার জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রসূতি মিম আক্তার পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ঝাউদিয়া এলাকার রাজিব হোসেনের স্ত্রী।
প্রসূতির ননদ সীমা খাতুন জানান, সকাল ৯টার দিকে মিম আক্তারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান। পরে সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় চিকিৎসক শিশির সিজার করবেন। কিন্তু জুমার নামাজের সময় চিকিৎসক বাইরে থাকাকালে নার্সরা তড়িঘড়ি করে প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। কিছু সময় পর জানানো হয়, সিজারিয়ানের মাধ্যমে একটি মৃত শিশুর জন্ম হয়েছে।
তার দাবি, চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে অপারেশন করায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
তবে চিকিৎসক শিশিরকে হাসপাতালে না পাওয়ায় তার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘আমি তখন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলাম না। পরে এসে জানতে পারি, সিজারিয়ানের মাধ্যমে একটি মৃত শিশুর জন্ম হয়েছে।’
তবে চিকিৎসক ছাড়াই অপারেশন করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, অপারেশনের সময় চিকিৎসক শিশির উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরে ওই হাসপাতাল মালিককে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



