রাজবাড়ীর পাংশায় মাকে হত্যার অভিযোগে রাজু বিশ্বাস (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে কসবামাজাইল ইউনিয়নের সূবর্ণখোলা এলাকা থেকে তারা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে পাংশা মডেল থানা পুলিশ।
এর আগে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কসবামাজাইল ইউনিয়নের সূবর্ণখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রাজু বিশ্বাসকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর তারা খাতুনের স্বামী জাবেদ বিশ্বাস পলাতক রয়েছেন।
নিহত তারা খাতুন (৫০) পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের জাবেদ বিশ্বাসের স্ত্রী।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাঈনুল ইসলাম জানান, নাদুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে তারা খাতুন নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যার কারণে মৃত্যু না কি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরো বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তারা খাতুনের মৃত্যু হয়ে থাকলেও তার ছেলের উচিত ছিল বিষয়টি কাউকে জানানো। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, তারা খাতুনের ছেলে রাজু ইয়াবা সেবন করতেন। একপর্যায়ে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ছেলের চিকিৎসার জন্য তারা খাতুন মোটরসাইকেলে কুষ্টিয়া জেলার বনগ্রাম এলাকার উদ্দেশে রওনা হন। তবে তারা খাতুনকে ছাড়াই রাজু বিশ্বাস তার খালার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে সকালে তারা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা খাতুনের সাথে তার স্বামী জাবেদ বিশ্বাসের সম্পর্ক ভালো ছিল না। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাদের ছেলে রাজু বিশ্বাস নেশায় আসক্ত ছিলেন।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, রাজু বিশ্বাসের মোটরসাইকেল থেকে পড়ে তারা খাতুনের মৃত্যু হয়ে থাকলেও তিনি বিষয়টি কাউকে অবহিত করেননি।
এদিকে ঘটনার পর থেকে তারা খাতুনের স্বামী জাবেদ বিশ্বাসও পলাতক রয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তদন্ত করছেন।


