ময়মনসিংহে বাড়ছে হামের প্রকোপ, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি আরো ২৪ শিশু

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৪ শিশু ভর্তি হওয়ায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশুরা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশুরা |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের ভয়াবহতা ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, থামছে না মৃত্যুর মিছিল। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৪ শিশু ভর্তি হওয়ায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি, টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা এবং মাঠপর্যায়ের নজরদারি নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ কীভাবে এমন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সচেতন মহলে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ২৪৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৬ শিশুর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত চিত্র আরো ভয়াবহ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, স্বাস্থ্যকর্মীদের তদারকির অভাব এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণেই হামের এমন বিস্তার ঘটছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- আক্রান্তদের বড় একটি অংশ ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশু, যা টিকা কাভারেজ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

বর্তমানে হাসপাতালে তিন মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা চিকিৎসাধীন থাকলেও অধিকাংশই কম বয়সী, ফলে ঝুঁকি আরো বাড়ছে।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনটি মেডিক্যাল টিম গঠনের কথা বললেও রোগীর চাপের তুলনায় তা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা: মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান দাবি করেছেন, রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, টিকাদান কার্যক্রমে গাফিলতি, স্বাস্থ্যসেবায় সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদাসীনতার কারণেই পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংক্রমণ আরো বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।