শাহবাগ থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১০ জন সাংবাদিকের ওপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রেসক্লাব। একইসাথে হামলায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) শাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি নোমান ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক নুর আলম এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।
যৌথ বিবৃতিতে শাবি প্রেসক্লাব নেতারা বলেন, গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়—বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটির সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি, সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম, ডেইলি অবজারভারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নাইমুর রহমান ইমন, দেশ রূপান্তরের খালিদ হাসান, ঢাকা ট্রিবিউনের সামশুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, রাইজিংবিডির সৌরভ ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খানসহ ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়। এর একদিন আগেও বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বপালনকালে হামলা ও হেনস্তা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। একইসাথে পুলিশ বেষ্টনীতে থাকা থানা এলাকায় এমন হামলা উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে, ক্যাম্পাসের অনিয়ম উদঘাটনে ও শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টের বিরুদ্ধে সাংবাদিকেরা কখনো থেমে থাকেনি। কলমের শক্তি দিয়ে তারা ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের সময়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এমন হীন কর্মকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে রুদ্ধ করে।
এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে বলে মনে করছেন তারা। সেই সাথে শাবি প্রেসক্লাব নেতারা সরকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।



