গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানার অন্তত ৫০ জন শ্রমিক কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় কারখানার শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত অসুস্থদের উদ্ধার করে স্থানীয় তায়েরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করে। চিকিৎসা শেষে অধিকাংশ শ্রমিক বাড়ি ফিরে গেছে এবং সকলেই আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টার দিকে মহানগরীর ভোগড়া (চৌধুরী বাড়ি) এলাকার বাংলাদেশ প্যান এশিয়া ক্লদিং লিমিটেড (পোশাক) কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় এক দিনের জন্য কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, কারখানাটিতে প্রায় দুই হাজার ২০০ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে যোগ দেয়। সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ করে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থতা বোধ করেন। এরপর দ্রুত আরো বেশকিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরে অন্য শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাদের স্থানীয় তায়েরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ শ্রমিক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেলেও ১৫ জন এখনো ওই দুই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ভর্তিকৃত শ্রমিকরা সবাই আশঙ্কামুক্ত।
বাংলাদেশে প্যান এশিয়া ক্লদিং লিমিটেড (পোশাক) কারখানার ঊর্ধ্বতন নির্বাহী (সিনিয়র এক্সিকিউটিভ) হারুন-অর রশিদ বলেন, ‘সকালে কাজে যোগ দেয়ার ঘণ্টা দুয়েক পর হঠাৎ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আরো কয়েকজনসহ মোট অর্ধশতাধিক শ্রমিক মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে অসুস্থ ৪০ জন শ্রমিককে তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়।’
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা: মামুনুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকরা মনস্তাত্ত্বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের অনেকেরই মাথা ঘোরানো ও বমির সমস্যা দেখা যাচ্ছে।’
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসেন জানান, হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোগীদের খবর নিয়েছি। এখন পর্যন্ত দু’টি হাসপাতালে ৫৫ জনের মতো ভর্তি হওয়ার খবর পেয়েছি। চিকিৎসকরা এটিকে ম্যাস হিস্টিরিয়া বা ম্যাস সাইকোজেনিক ডিজিজ বলে জানিয়েছেন। সবাই আশঙ্কামুক্ত আছেন। তাদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।



