বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নোবিপ্রবিতে শোক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নোবিপ্রবির জাতীয়তাবাদী ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ সভার আয়োজন করে।

মুহাম্মদ হানিফ ভুঁইয়া, নোয়াখালী অফিস

Location :

Noakhali
শোক ও আলোচনা সভা
শোক ও আলোচনা সভা |নয়া দিগন্ত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, নোবিপ্রবির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকারী ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের উদ্বোধক মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নোবিপ্রবি শোক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নোবিপ্রবির জাতীয়তাবাদী ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ সভার আয়োজন করে।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।

এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অবিসংবাদিত নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এ শোকসভায় আমি মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তার হাত ধরেই দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের যাত্রা শুরু হয়। একই সাথে আমি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। দেশে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষাসহ শিক্ষাক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সমাজ গঠনে ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে তার যে আদর্শ তা যদি নতুন প্রজন্ম ধারণ করতে পারে তাহলে আমরা একটি বৈষম্যহীন আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করতে পারবো। আমরা দেশের এ শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করবো এবং বৈষম্যহীন আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার আদর্শ ধারণ করবো।’

আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জনাব ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রাম আমরা যদি লালন এবং প্রতিপালন করি তাহলেই তাকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। তার দেখানো পথ আমাদের অনুসরণ করতে হবে। বেগম জিয়ার চিন্তা এবং চেতনার ফসল এ বিশ্ববিদ্যালয়। এটি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। শিক্ষার্থীদের মাঝে বেগম জিয়ার আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে। তবেই প্রতিটি বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে। বেগম জিয়া তার অভিষ্ঠ্য লক্ষ্যে সফল হয়েছেন। যা ছিল বৈষম্য ও শোষণহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। আপসহীন নেত্রী হিসেবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান চির অম্লান হয়ে থাকবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আত্মসম্মান নিয়ে জীবন অতিবাহিত করে গেছেন। কোনোদিন তিনি অন্যায়ের সাথে আপস করেননি, যা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মন থেকে বেগম জিয়ার যে শিক্ষা তা আমাদের ধারণ করতে হবে। আমরা যেনো নিষ্ঠার সাথে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করি, সেটাই হবে দেশপ্রেমের অংশ।’

আলোচনা সভায় নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি দেশবাসী যে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন তা অভূতপূর্ব। গোটা দেশ শ্রদ্ধাবনত হয়ে তাকে বিদায় জানিয়েছে। তিনি কখনো কাউকে কটূক্তি করেননি। জীবনের সবকিছু হারিয়েও অন্যায়ের সাথে ছিলেন আপসহীন। এ জন্যই তিনি গণমানুষের কাছে এতো জনপ্রিয়। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার অবদান আমরা শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবো।’

সভায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নোয়াখালী জেলার আহ্বায়ক জনাব মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মানবিক গুণাবলির কথা বলে শেষ করা যাবে না। একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। তার শূন্যতা কখনোই পূরণ হবার নয়। তিনি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য সর্বদা সংগ্রাম করেছেন। এ জন্য তাকে নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তারপরেও তিনি তার অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। বেগম জিয়ার দীর্ঘ এ সংগ্রামের পথে আমরা অনেকেই তার সঙ্গী হয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আমরা পরিবর্তনের পথে ধাবিত হচ্ছি। আমি আশাবাদী বাংলাদেশ তার সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।’

নোবিপ্রবি জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শাখা কর্মকর্তা জনাব জিয়াউর রহমান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো: আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সাবেক পৌর মেয়র জনাব হারুন-অর-রশীদ আজাদ, নোবিপ্রবি শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যপক ড. মো: জাহাঙ্গীর সরকার, বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, উপ-রেজিস্ট্রার জনাব মো: ইসমাইল হোসেন, শাখা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের রহমান ও শান-ই-এলাহী বাবু, নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী মো: জাহিদ হাসান ও হাসিবুল হোসেন হাসিব।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান, দফতর ও শাখা প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। শোকসভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করা হয়।