মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত সদর আলীর দাফন সম্পন্ন

স্ত্রী-সন্তানকে সুখে রাখার আশায় পাড়ি দেন মালদ্বীপ। সেখানে ২ বছর ধরে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে নিয়মিত সংসার খরচের টাকা পাঠাচ্ছিলেন।

এস এম খোকন, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ)

Location :

Baniachang
মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত সদর আলীর দাফন সম্পন্ন
মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত সদর আলীর দাফন সম্পন্ন |নয়া দিগন্ত

স্ত্রী-সন্তানকে সুখে রাখার আশায় পাড়ি দেন মালদ্বীপ। সেখানে ২ বছর ধরে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে নিয়মিত সংসার খরচের টাকা পাঠাচ্ছিলেন। আরো অতিরিক্ত খাটুনি খেটে পারিবারিক ঋণ পরিশোধের চিন্তাও ছিল তার। কিন্ত ঘুমন্ত অবস্থায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সব স্বপ্ন লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চির নিদ্রায় শায়িত হন সদর আলী।

মহল্লার মসজিদে জানাজার নামাজে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরফান উদ্দিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সহ কয়েকশত মানুষ জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন।

এর আগে রোববার রাত ৯টার দিকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে তার লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

এরপর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দুইজন কর্মকর্তাসহ স্বজনরা লাশ গ্রহণ করেন।

বিমানবন্দরের কার্যক্রম শেষ করে রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে লাশ বাড়িতে পৌঁছায়।

উল্লেখ, প্রায় ২ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপ পাড়ি জমান বানিয়াচং উপজেলার ৩নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের মহব্বত খানী মহল্লার সদর আলী। মালদ্বীপে গিয়ে তিনি দিঘুরা আইল্যান্ড নামক স্থানে বসবাস করতেন। আর সেখানেই গত বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দিবাগত-ভোর রাতে সেহরি রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরণের পর পুরো রুমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ-সময় রুমে ঘুমে থাকা আরো চারজন বাংলাদেশী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। বিস্ফোরণে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় একই রুমে বসবাস করা ৫ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়। এছাড়াও আরো ২ বাংলাদেশী গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত সদর আলীর ভাগ্নে এস এম খলিলুর রহমান রাজু জানান- বিস্ফোরণে ৫ বাংলাদেশীর মৃত্যু হলেও একমাত্র তার মামা সদর আলীর লাশ দেশে এসেছে। বাকীদের লাশ একটি হাসপাতালের হিমাগারে রয়েছে। সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা বাকী লাশগুলো খুব শীঘ্রই দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন।