ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যার পর ৯৯৯- এ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চেয়ে আত্মসমর্পণ করেন বাবা আব্দুল বারেক খান। এ ঘটনায় কাঁঠালিয়া থানা পুলিশ আব্দুল বারেক খানকে (৫৫) আটক করেছে এবং নিহত মেহেদী হাসান শুভর লাশ উদ্ধার করেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টায় উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছোনাউটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মেহেদী দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকাসক্ত ছিলেন। প্রায়ই তিনি বাবা-মা, একাধিক এলাকাবাসীকে মারধর এবং কুপিয়ে জখম করতেন। তার অত্যাচার ও নির্যাতনে বাবা-মাসহ এলাকাবাসী আতঙ্কে থাকতেন। ঘটনার দিন সকালে আব্দুল বারেক খানের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন এবং বসতঘর ভাঙচুর করেন মেহেদী। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় মেহেদী বাজার থেকে একটি দা কিনে নিয়ে বাড়ি যান। তার মাকে জানান, টাকা না দিলে আজ রাতে তাদের দু’জনকে হত্যা করা হবে।
এ খবর মা খুশি বেগম আব্দুল বারেক খানকে জানান। বারেকের পরামর্শে খুশি বেগম রাতে অন্য ঘরে ঘুমান। রাত ৩টার দিকে বারেক খান ঘুমন্ত ছেলে শুভকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জাতীয় পরিষেবা ৯৯৯- এ কাঠালিয়া থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় তারা শুভর লাশ উদ্ধার করেন এবং আব্দুল বারেক খানকে আটক করে কাঁঠালিয়া থানায় নিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় আব্দুল বারেক খানকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন খুশি বেগম।
সহকারী পুলিশ সুপার (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর) সার্কেল মো: শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন কাঁঠালিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান ও ওসি তদন্ত হারান চন্দ্র পালসহ পুলিশের একটি টিম।
মো: শাহ আলম জানান, মেহেদী হাসান শুভ মাদকাসক্ত ছিলেন। শুভর ভয়ে পরিবারের সদস্যরাসহ এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিলেন। যেকোনো সময় তিনি মা-বাবা ও এলাকাবাসীকে মারধর ও জখম করতেন। ঘটনার দিন টাকা দিতে ব্যর্থ হলে মা-বাবা দু’জনকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেন। এতে বাবা বারেক ভীত-সন্ত্রস্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী খুশি বেগমকে অন্য ঘরে ঘুমাতে দিয়ে রাত ৩টার দিকে দা দিয়ে কুপিয়ে শুভকে হত্যা করেন।



