এনসিপির খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং এনসিপি শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদারকে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনায় সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত সীল করে দেয়া হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক সংখ্যক চেকপোষ্ট বসিয়ে ও টহল তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিজিবি। পাশাপাশি ভোমরা স্থলবন্দর চেকপোস্ট সহ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এনসিপি কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো: মোতালেব সিকদার (৪২) খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার শেখ পাড়া পল্লী মঙ্গল স্কুল এলাকার মরহুম মুসলিম শিকদারের ছেলে।
মোতালেব হত্যা প্রচেষ্টাকারী দুর্বৃত্তরা যাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে বিজিবি চেক পোস্টে চলছে কঠোর নজরদারি ও তল্লাশি। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বহিরগমন সকল যাত্রীর পাশাপাশি যাত্রী বহনকারী পরিবহন ও প্রাইভেটকার সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সাথে সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি কৃষি কাজের জন্য হলেও।
সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ভোমরা কোম্পানি কমান্ডার সুবিধার আফজাল হোসেন বলেন, আপাতত আমরা সীমান্তের ১৫০ গাজের ভেতরে কাউকে যেতে দিচ্ছি না, এমনকি সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী কৃষকদেরকেও সোমবার দুপুরের পর থেকে তাদের জমিতে কৃষি কাজে যেতে দেয়া হচ্ছে না।
এদিকে সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়ন সদর দফতর থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর সোনাডাংগা আবাসিক এলাকার সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক উইং, খুলনার বিভাগীয় আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো: মোতালেব সিকদার (৪২) দূর থেকে দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে আহত হন। সংঘটিত ঘৃন্য অপরাধে জড়িত দুস্কৃতিকারী অপরাধীকে অনতিবিলম্বে আটক এবং সীমান্ত অতিক্রম রোধকল্পে সাতক্ষীরা সীমান্ত সীল করে দেয়ার পাশপাশি সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, এনসিপি নেতাকে হত্যা প্রচেষ্টা ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক আসামিরা যেন বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষে যশোর রিজিয়ন বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা সহ সীমান্তবর্তী অন্য জেলার সীমান্তে নিচ্ছিদ্র নজরদারী ও পাহারা জোরদার করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে যশোর রিজিয়নের আওতাধীন সাতটি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এবং সীমান্তের আশেপাশের এলাকায় ৫৭টি চেকপোষ্ট স্থাপনের মাধ্যমে দুস্কৃতিকারীকে আটকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়াও নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সীমান্তে অতিরিক্ত ৮৭টি টহল পরিচালনার মাধ্যমে দুস্কৃতিকারী অপরাধীর সীমান্ত অতিক্রম রোধকল্পে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা ও সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় জনসাধারণ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় ও বিশেষ প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য প্রেষণা প্রদান করা হচ্ছে বলে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন ওই বিজিবি কর্মকর্তা।



