প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পদ্মফুল প্রকৃতির অপরূপ সাজে সেজেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ও রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা দাঁড়াইল বিলে। দীর্ঘ প্রায় দেড়যুগ পর এ বিলে আবারো প্রস্ফুটিত হয়েছে এ ফুলের বাহার। নয়নাভিরাম এ ফুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন দোলা দিচ্ছে অতিতের জীবনকে। গোলাপি আভার এই পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিলপাড়ে মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে প্রতিদিন ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের বুকজুড়ে ফুটন্ত, আধোফোটা আর কুঁড়ি পদ্মফুলের এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। যেন প্রকৃতির তুলিতে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। বিলের শান্ত জলে ফুটে থাকা পদ্মফুল দেখতে আসা মানুষের কলকাকলিতে এখন মুখর এলাকাটি। অনেকেই ছোট ছোট নৌকায় চড়ে বিলের গভীরে গিয়ে পদ্মফুলের সান্নিধ্য নিচ্ছেন এবং প্রিয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: জাহেদ মিয়া, জুয়েল রানা, আবু সাদেক, আ: জলিলসহ অনেকেই বলেন, একসময় এই এলাকার বিলগুলোতে পদ্মফুলের রাজত্ব ছিল। অপুর্ব দৃশ্য উপভোগ করত এলাকার মানুষ। প্রাকৃতিক লীলা খেলায় পদ্মফুলের এ রাজত্ব ছিল মানুষের মনের অন্যতম খোরাক। দীর্ঘদিন পর আবারো পদ্মফুল ফিরে আসায় আমাদের পুরোনো স্মৃতি সজীব হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিলপাড়ের সাথে যাতায়াতের তেমন কোনো সুবিধা না থাকায় প্রকৃতি প্রেমিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের মধ্যে সংবাদকর্মী হুমায়ুন কবির, কুহিনূর আলম, সালাউদ্দিন সালাম, রুকন উদ্দিন জানায়, শহুরে জীবনের ব্যস্ততা ভুলে এখানে আসলে মন সতেজ হয়ে যায়। তবে যাতায়াতের বেহাল দশা আমাদের কিছুটা ভোগান্তিতে ফেলে। কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি থাকলে এই স্থানটি আরো মনোরম হয়ে উঠত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘পদ্মফুলের এই বিস্তার সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। কৃষি বিভাগের আওতায় পদ্মফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ না থাকলেও, আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। দ্রুতই আমি এলাকাটি পরিদর্শনে যাব এবং পদ্মফুল সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করব।’



